© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ বলা ওসিকে প্রত্যাহার

শেয়ার করুন:
‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ বলা ওসিকে প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:২৯ পিএম | ৩১ মে, ২০২৬
‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ বলা বক্তব্যের অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) রাত ৮টার পর ওই অডিও রেকর্ডটি ছড়িয়ে পড়ে। রোববার জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি দেশের একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’

ওই রেকর্ডে ওসিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সাথে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যে–ই অধিকার, সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে- তারা যেন যেটা পাওয়ার, সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’

তবে ভাইরাল হওয়া অডিওটির সত্যতা এবং এর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে কলমাকান্দা থানার ওসি আবুল হাশেম জানান, এই অডিও বা কথোপকথনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এমন কোনো কথা তিনি বলেননি বলেও সাফ জানিয়ে দেন।

তার দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারা এটি তৈরি করেছে, তা তার জানা নেই। অবৈধ কোনো সুবিধা না দেওয়ায় একটি কুচক্রী মহল তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্টো অভিযোগ করেন।

ওসি আরও বলেন, ‘আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি আমি ইতোমধ্যেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, অপেশাদার সুলভ বক্তব্য শোনার পর তাকে ক্লোজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আপাতত ক্লোজ থাকবে। তদন্তের পর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। 

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন