স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ‘ভাগ্নি জামাই’ সিন্ডিকেটে দুর্নীতি-অপকর্ম পুরনো ধারায়
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪২ পিএম | ৩০ জুলাই, ২০২৬
স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি যেন অধরা। আওয়ামী লীগ আমলে যেমন ছিল, এখনো ঠিক তেমনটাই। আওয়ামী সিন্ডিকেটগুলো এই বিএনপি সরকারের আমলে আবারও নতুন করে ‘লাইন’ ঠিক করে নিয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান নীতিনির্ধারকদেরও পছন্দ এদেরই। কারণ, এদের টাকা আছে। দুর্নীতি, লুটপাটের ফন্দিফিকির এবং সেই সাহসও এদের আছে। কীভাবে সব মহলকে ম্যানেজ করে চলতে হয় তা এদের জানা আছে। তবে পুরনো সিন্ডিকেটগুলো চলছে এখন মন্ত্রণালয়কেন্দ্রীক শক্তিশালী একটি বলয়ের অধীন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ছত্রছায়ায় তাঁর আপন ‘ভাগ্নি জামাই’, মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পার) মো. মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এই বলয় বা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে তৈরি হওয়া মন্ত্রণালয়কেন্দ্রীক স্বাস্থ্যখাতের এই সিন্ডিকেটে আরও তিন জন রয়েছেন নেতৃত্ব পর্যায়ে। এরা হলেন, মন্ত্রীর এপিএস মোস্তাফিজুর রহমান, সিএমএসডি (কেন্দ্রীয় ঔষধাগার)-এর পরিচালক, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ শফিউর রহমান এবং মন্ত্রীর পিএস এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। এরাই নির্ধারণ করছেন বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি, এমনকি টেন্ডারসহ স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট সবকিছু। চিকিৎসকদের মধ্যকার বিএনপিপন্থি সংগঠন ডক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ড্যাব সরাসরি দুই ভাগে বিভক্ত। শুধু দুই ভাগ-ই নয়, বলা যায় অনেক ভাগে বিভক্ত। সেই সুযোগটিই এরা নিচ্ছেন। দু’একজন নেতাকে ছোটখাটো কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাকিদের নানাভাবে চাপে রেখে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করছে এই চক্রটি। এমনকি ড্যাব নেতাদের মধ্যকার কোন্দল-গ্রুপিং বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রেও এদের ইন্দন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যসূত্র - শীর্ষনিউজ
সিন্ডিকেট যেভাবে গড়ে উঠলো
যুগ্মসচিব (পার) এবং এপিএস- দুই মোস্তাফিজেরই গ্রামের বাড়ি মাগুরায়। এপিএস মোস্তাফিজকে রিক্রুট করেছেন ভাগ্নি জামাই মুস্তাফিজ। অন্যদিকে সিএমএসডি’র পরিচালক শফিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। সেই সূত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের ‘ভাগিনা’ পরিচয়ে ক্ষমতাবান। অবশ্য, ৫ আগস্টের আগেও প্রশাসনের ২৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা সাবেক ‘ছাত্রলীগ’ নেতা হিসেবে ক্ষমতাবান বলেই পরিচিত ছিলেন। ওই সময় ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে আকর্ষণীয় পদোন্নতিসহ নানা রকমের সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন। আকর্ষণীয় পদায়নে থেকে বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন। বিশেষ করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক পদে প্রায় তিন বছর একনাগাড়ে থেকে প্লট জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম-অপকর্মের মাধ্যমে আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। সেইসব অর্থের কিছু অংশ ব্যয় করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নতুন করে ‘ভাগিনা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টাকার জোরে পদায়ন নিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। উদ্দেশ্য ছিল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে পদায়ন নেওয়া। সেখানে যেতে পারলে আবারও কাড়ি কাড়ি টাকা কামানো যেতো। কিন্তু অনেক চেষ্টা-তদবির করেও সম্ভব হয়নি, যেহেতু এর আগেই অন্য একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল এ অধিদপ্তরটি। অবশেষে সেই চিন্তা বাদ দিয়ে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-তে অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে পদায়ন নেন। অবৈধ অর্থ আয়ের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন এই পদটি ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের চেয়েও আকর্ষণীয় পদ হিসেবে বিবেচিত। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে ভাগ্য খুলে যায়- বন্ধু, ব্যাচমেট মুস্তাফিজুর রহমানের মামাশশুর সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায়। মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে জোট বাঁধেন স্বাস্থ্যখাত লুটপাটের। মন্ত্রীর এপিএস পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন নিজের এলাকার আরেক মোস্তাফিজকে, যিনি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী নিজের পূর্ব পরিচিত অথবা এলাকার রাজনীতির কাউকে এপিএস পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু তা না-করে ভাগ্নি জামাইয়ের পছন্দের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। যেহেতু মন্ত্রণালয়টা ভাগ্নিজামাই-ই চালাবেন। আদতে সেটিই ঘটছে। ভাগ্নি জামাই-ই এখন সবকিছু চালাচ্ছেন সিন্ডিকেট গড়ে তুলে।
জানা গেছে, ভাগ্নি জামাই মুস্তাফিজও আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত। আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন তখনকার সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন। এই আকরাম-আল-হোসেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে থাকাকালে নিয়োগ দুর্নীতিসহ অনেক অনিয়ম-অপকর্ম করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ভাগ্নি জামাই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান যুগ্মসচিব (পার) মুস্তাফিজুর রহমান ওই সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আকরাম-আল-হোসেনের দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের আরেক ভাগ্নিজামাই ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক। সেই ডিসির আপন ভাই ছিলেন পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আসামী, প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকারও এই সিন্ডিকেটে যুক্ত আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এক নাগাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে এপিডি উইংয়ে কর্মরত ছিলেন তিনি। তার দ্বারা বিএনপি সমর্থিত অফিসাররা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন এবং অনেক অফিসারকেই ডাম্পিং পোস্টে পদায়ন করেছেন নিজ উদ্যোগে। আওয়ামী শাসনামলে তার দাপটে অনেকে ন্যায্য কথা বলারও সাহস করতেন না। অবাক ব্যাপার হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তা খাগড়াছড়ি জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন বাগিয়ে নেন। এনসিপি নেতাদের বড় অংকের টাকা দিয়ে ওই পদায়ন বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নামে নানা অভিযোগ আছে। আওয়ামী লীগ আমলে দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন এই ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। গুঞ্জন রয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হওয়ার জন্য একটি মহলকে বড় অংকের টাকা দিয়েছেন। ভাগ্নি জামাই সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে সেই টাকা এখন সুদে আসলে তুলে নিচ্ছেন।
নতুন সিন্ডিকেটের অধীনে পুরনো ঠিকাদার
আওয়ামী লীগ আমলে ১৫ বছরে ছোটখাটো সাধারণ ঠিকাদাররা স্বাস্থ্যখাতে লুটপাটের মাধ্যমে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতের দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরাও বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়েছেন। শত কোটি এমনকি কেউ কেউ হাজার কোটি টাকারও মালিক বনেছেন এই দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। এদের মধ্যে সাজ্জাদ মুন্সী, আবজাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমান, ফারুক হাসান অনেকেই রয়েছেন। বহুল আলোচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আবজাল হোসেন আওয়ামী লীগ আমলে গ্রেফতার হয়ে জেলে আছেন। দেশে-বিদেশে আবজালের শত কোটি টাকার সম্পদের তথ্য প্রকাশ হয় ওই সময়। দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী মুন্সী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে সাজ্জাদ মুন্সী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ‘পর্দা কেলেঙ্কারির’ নায়ক বলে পরিচিত। স্বাস্থ্যখাতে বেনামী ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িত হয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই কর্মচারী একাধিকবার জেলে ঢুকেছেন এবং বের হয়েছেন। বর্তমানে তিনি মন্ত্রণালয়ের ‘ভাগ্নী জামাই’ সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এমনকি মন্ত্রীর সঙ্গে গোপন স্থানে এক দফায় তার বৈঠক হওয়ার খবরও নিশ্চিতভাবে জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য সূত্র।
অনিয়ম-দুর্নীতি ও বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাস্থ্যখাতের ২৩ জন কর্মচারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তাদের প্রত্যেককে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাস্তিমূলক বদলি এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ শুরু করে। পরের বছর ২০২০ সালের অক্টোবরে আরও ১২ জন কর্মচারীকে দুদকে তলব করা হয়। দুদকের ওই নোটিসে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে বিদেশে অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দুদকের তদন্ত কার্যক্রম থামিয়ে দিতে সক্ষম হন শত কোটি টাকার মালিক এই কর্মচারীরা। যাদের অধিকাংশই এখন পর্যন্ত আগের মতো অনিয়ম-অপকর্মে সক্রিয় রয়েছেন। কেউ কেউ সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর এখন শুধুমাত্র ঠিকাদারি কার্যক্রমে নিয়েই ব্যস্ত আছেন।
দুর্নীতিবাজ চিহ্নিত ঠিকাদারদের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতের লুটপাটে সবচেয়ে আলোচিত নাম মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু, এটা কারো অজানা নয়। তাকে মাফিয়া ঠিকাদার বলেও আখ্যায়িত করা হয়। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচারের দায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি গ্রেফতার হয়ে বেশ কয়েকমাস কারাগারে ছিলেন। এছাড়া আরও অনেকেই রয়েছেন যারা আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রী-সচিবসহ দুর্নীতিবাজ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ওপি’র (অপারেশনাল প্ল্যান) অধীনে বিপুল অংকের অর্থ বরাদ্দই ছিল দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের লুটপাটের কেন্দ্র। কিন্তু ওপি বাতিল হওয়ার পর থেকে গত দু’বছর ধরে এ ধরনের ব্যাপকভিত্তিক উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। ফলে ঠিকাদাররা এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতালের এমএসআর সামগ্রী কেনাকাটাকে ঘিরে বড় ধরনের অনিয়ম-অপকর্মে নেমেছে। এ ক্ষেত্রে হাতে গোনা কয়েকজন ঠিকাদারের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সারা দেশের এমএসআর ব্যবসা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নানা রকমের জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে টেন্ডার কাজ। মনিরুজ্জামান ঢালী, এমদাদ হোসেন ও রবিউল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন এই চক্রে। মাদারীপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিরাজ হোসেনের ঠিকাদারি ব্যবসা এখনও স্বাস্থ্যখাতে দাপটের সঙ্গেই আছে। এদের সবারই মন্ত্রণালয়কেন্দ্রীক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই মাঠ পর্যায়ের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর এরা প্রভাব খাটায়। এদের প্রত্যেকেরই বিভিন্ন নামে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। টেন্ডার ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এরা নিজের একাধিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ঠিকাদার চক্রের সদস্যরা সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডারে আগে থেকেই পিই’র পাসওয়ার্ড নিজের কাছে নেন। এতে পুরো টেন্ডারটি তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। অন্য কারো কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। অন্য দরদাতা ভালো দরপ্রস্তাব দাখিল করলেও ওই টেন্ডার বাতিল হয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের সব রকমের কেনাকাটা এখন এই সিন্ডিকেটের হাতে। কারণ, সিএমএসডি’র পরিচালক পদে আছেন সিন্ডিকেটেরই সদস্য শফিউর রহমান। এখানকার এক টাকার কাজও সিন্ডিকেটের ইচ্ছের বাইরে অন্য কারো পাওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া দেশের অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানও পুরোপুরি এদেরই নিয়ন্ত্রণে। এরাই নির্ধারণ করে দিচ্ছেন কে, কোথায় কাজ পাবেন।
নিয়োগ-বদলি পদোন্নতি পুরোটাই সিন্ডিকেটের হাতে
সিন্ডিকেটের মূল নেতা ভাগ্নি জামাই যুগ্মসচিব মুস্তাফিজুর রহমান মন্ত্রণালয়ের পার অধিশাখার দায়িত্বে আছেন। অর্থাৎ নিয়োগ-বদলি পদোন্নতি সবই তাঁর নিয়ন্ত্রণে। তাঁর ইচ্ছের বাইরে কিছুই হওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া তিনি মন্ত্রীরও ভাগ্নি জামাই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বদলি-পদায়নেই কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে। এটি পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন ভাগ্নি জামাই। প্রতিটি পদায়নে ৫ থেকে ১০ লাখ এমনকি পদের গুরুত্ব অনুযায়ী ২০ লাখ বা তারও বেশি আদায় হয়ে থাকে। বড় অংকের টাকা দিতে পারছে ফ্যাসিস্ট অর্থাৎ আওয়ামী লীগ আমলে যারা অবৈধ উপায়ে বিপুল অংকের অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন এরা। এইসব চিকিৎসকই ভাগ্নি জামাই সিন্ডিকেটের পছন্দ। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের আকর্ষণীয় পদায়ন দিতে গিয়ে নানা রকমের কেলেঙ্কারিও হচ্ছে। পরবর্তীতে পদায়ন বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক, বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, বরিশালের সিভিল সার্জন প্রভৃতি এ রকমের অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে ইতিমধ্যে। এসব কারণে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র - শীর্ষনিউজ
টিকে/