তেলুগু ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কী মত জাহ্নবীর?
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫৭ পিএম | ৩১ মে, ২০২৬
গত কয়েক মাস ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে কর্মঘণ্টা নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করার অবস্থান নিয়ে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের বক্তব্য যখন নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই কাজের পরিবেশ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন জাহ্নবী কপূর।
মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে জাহ্নবীর দ্বিতীয় তেলুগু সিনেমা ‘পিদ্দী’। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন রাম চরণ। সিনেমাটির প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনের কাজের সংস্কৃতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
জাহ্নবীর মতে, তেলুগু চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হলো সবার সময়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া। শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রী নন, আলোকচিত্রী, কারিগরি কর্মী ও অন্যান্য কলাকুশলীদের সময়কেও যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয় সেখানে। তার ভাষায়, কাজের সময়সূচি মেনে চলার ক্ষেত্রে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি অনেক বেশি সচেতন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।
অভিনেত্রী জানান, শুটিং চলাকালে খাওয়া, বিশ্রাম এবং কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। দুপুরের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে, এমনকি খাবারের পর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়। তার মতে, এই বিষয়গুলো কর্মীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মুম্বাইয়ের কাজের পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে জাহ্নবী বলেন, হিন্দি চলচ্চিত্র অঙ্গনে অনেক সময় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে নিয়মকানুন বদলে যায়। সব ক্ষেত্রে কর্মঘণ্টা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় না। অন্যদিকে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে সময় ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুসংগঠিত।
রাতের শুটিং নিয়েও ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। জাহ্নবীর দাবি, তেলুগু সিনেমার শুটিংয়ে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চললেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা শেষ করার চেষ্টা করা হয়, যাতে শিল্পী ও কলাকুশলীরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান।
এছাড়া তেলুগু সিনেমার কাজে খুব কম ক্ষেত্রেই তাকে টানা ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। অধিকাংশ দিনই নয় থেকে দশ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যেত। তার বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদে একটি পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল কর্মপরিবেশই শিল্পী ও কর্মীদের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।
এদিকে কর্মঘণ্টা নিয়ে চলমান বিতর্কের কারণে জাহ্নবীর এই মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে দীপিকা পাড়ুকোনের আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবি নিয়ে যখন নানা মতভেদ তৈরি হয়েছে, তখন দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনের কাজের সংস্কৃতি নিয়ে জাহ্নবীর ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
এসএ/টিএ