© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মুম্বাইয়ের রাস্তায় ভিক্ষা করতে দেখা গেল অভিনেত্রী মিতালিকে

শেয়ার করুন:
মুম্বাইয়ের রাস্তায় ভিক্ষা করতে দেখা গেল অভিনেত্রী মিতালিকে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৩৭ পিএম | ৩১ মে, ২০২৬
লাইমলাইটের ঝলমলে আলো কার জীবনে কখন যে কী অন্ধকার বয়ে আনে, তা আগে থেকে বলা মুশকিল। যার রূপ আর অভিনয়ে একসময় বুঁদ ছিল সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি, সময়ের নিষ্ঠুর পরিহাসে তার কপালেই জুটল ফুটপাতের ধুলোবালি। এমন এক চরম পরিণতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভোজপুরি চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ মিতালি শর্মা।

ক্যারিয়ারের শুরুতে যাকে মনে করা হতো ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সম্ভাবনাময় এক তারকা, আজ তার এই করুণ দশা কেউ স্বপ্নেও কল্পনা করেনি। মডেল হিসেবে শোবিজ দুনিয়ায় পা রেখেছিলেন দিল্লির মেয়ে মিতালি শর্মা। অভিনেত্রী হওয়ার অদম্য স্বপ্ন বুকে নিয়ে এসেছিলেন মায়ানগরী মুম্বাইয়ে। শুরুর দিকে ভাগ্য সহায়ও হয়েছিল তার।

প্রথম দিকের বেশ কয়েকটি সিনেমা তাকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছেও রাতারাতি প্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের সেই সুদিন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিতালির হাতের কাজ কমতে শুরু করে। তীব্র প্রতিযোগিতার মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকাটাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রূপালী পর্দার মোহ মিতালিকে শুধু ক্যারিয়ারেই পিছিয়ে দেয়নি, বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল নিজের পরিবার থেকেও। পরিবার থেকে দূরে সরে গিয়ে একসময় তিনি সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে ভর করে তীব্র আর্থিক অনটন।

নিয়মিত আয় না থাকায় একপর্যায়ে সিনেমা ও ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য কাজ থেকেও ক্রমাগত বাদ পড়তে থাকেন মিতালি। ক্যারিয়ারের এই বিপর্যয় আর একাকীত্ব তাকে ঠেলে দেয় গভীর মানসিক অবসাদের দিকে।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালা এলাকার রাস্তায় এই অভিনেত্রীকে অত্যন্ত শোচনীয় ও যন্ত্রণাময় অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জীবন ধারণের জন্য একসময়ের এই রুপালী পর্দার নায়িকাকে রাস্তায় ভিক্ষা করতেও দেখা গেছে। মিতালির এমন রূপ দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষ ও তার ভক্তরা।

অবশেষে মুম্বাই পুলিশ রাস্তায় এভাবে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখে মিতালিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ সূত্রের খবর, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ক্ষুধার্ত মিতালি প্রথমে কর্মকর্তাদের কাছে খাবার চান। তার এই বিপর্যস্ত মানসিক ও শারীরিক অবস্থা দেখে কালক্ষেপণ না করে পুলিশ তাকে একটি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানেই চলছে একসময়ের এই সম্ভাবনাময় অভিনেত্রীর চিকিৎসা। গ্ল্যামার দুনিয়ার পর্দার পেছনের অন্ধকার যে কতটা নির্মম হতে পারে, মিতালির জীবন যেন তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ।

এসএ/টিএ


মন্তব্য করুন