মানি লন্ডারিং মামলায় জ্যাকুলিনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫১ পিএম | ৩১ মে, ২০২৬
২০০ কোটি রুপির আর্থিক প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলায় বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের আইনি জটিলতা আরো বেড়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলায় জ্যাকলিনসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত।
শনিবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট জানান, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ, মূল অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর, তার স্ত্রী লীনা মারিয়া পলসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে।
আগামী ৩ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত সেশনস বিচারক প্রশান্ত শর্মা বলেন, ‘মামলার নথি ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে অভিযুক্তরা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা প্রয়োজন।’
আদালত সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সংগঠিত অপরাধ এবং অবৈধ সম্পদ রাখার অভিযোগে মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট (এমসিওসিএ)-এর আওতায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।

ইডির দাবি, সুকেশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও জ্যাকলিন তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। তদন্ত সংস্থার অভিযোগ, সুকেশের কাছ থেকে অভিনেত্রী একাধিক মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছিলেন, যেগুলো অবৈধ অর্থের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল।
তবে শুরু থেকেই জ্যাকুলিনএসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, সুকেশ চন্দ্রশেখর তাকে প্রতারণার মাধ্যমে এই ঘটনায় জড়িয়ে ফেলেছেন এবং তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না।
মামলার সূত্রপাত কয়েক বছর আগে। অভিযোগ রয়েছে, দিল্লির তিহার কারাগারে বন্দি অবস্থায় সুকেশ চন্দ্রশেখর নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এবং সহযোগীদের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রাক্তন র্যানব্যাক্সি কর্তা শিবিন্দর সিংয়ের স্ত্রী অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি হাতিয়ে নেন।
তদন্তের সময় সুকেশের সঙ্গে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর থেকেই অভিনেত্রীর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এদিকে কয়েক মাস আগে জ্যাকুলিন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজ সাক্ষী হওয়ার আবেদন করেছিলেন। তার দাবি ছিল, তদন্তে সহায়ক হতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছে রয়েছে। তবে ইডি সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে মামলাটি এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। চার্জ গঠনের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হবে, যা এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এসএ/টিএ