আইনি সুরক্ষা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বরুণ ধাওয়ান
ছবি: সংগৃহীত
১০:২০ এএম | ০১ জুন, ২০২৬
তারকাদের পরিধি শুধু সিনেমা, টেলিভিশন, ম্যাগাজিন কিংবা খবরের কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির এই যুগে প্রিয় তারকারা এখন ভক্তদের হাতের মুঠোয়। তবে এই সহজলভ্যতার হাত ধরে তারকারা প্রতিনিয়ত নানা রকম অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির আশঙ্কাজনক উত্থানে রীতিমতো নাজেহাল বিনোদন দুনিয়া।
তারকাদের ব্যক্তিগত অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন বাণিজ্যিক বা অন্যান্য ওয়েবসাইটে দেদারসে ব্যবহৃত হচ্ছে তাদের ছবি ও কণ্ঠস্বর। অতীতে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, সালমান খান, বিবেক ওবেরয়, আল্লু অর্জুনসহ একাধিক শীর্ষ তারকা এমন ঘটনার শিকার হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত অধিকার ও গোপনীয়তা রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।
এবার সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো বলিউড পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের ছেলে অভিনেতা বরুণ ধাওয়ানের নাম। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিওর অবৈধ ব্যবহার রুখতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন দাখিল করেছেন এই অভিনেতা।

গত শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জ্যোতি সিং-এর একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আদালত ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিনেতার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরুণের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও তার ব্যক্তিত্বের নানা বৈশিষ্ট্য অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছিল। শুধু তা-ই নয়, বরুণের অভিযোগ তাকে জড়িয়ে ডিপফেক ভিডিও, আপত্তিকর ছবি এবং নানা বিভ্রান্তিকর লিংক ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই পুরো ঘটনায় বরুণ ধাওয়ান ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন এবং তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।
আদালতের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে সব ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কনটেন্ট আর ছড়াতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সময়ে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনী প্রচারণার হার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সহজেই কারও পরিচয় নকল করার এই প্রবণতাকে আমলে নিয়ে আদালতও এখন ব্যক্তিগত অধিকার ও গোপনীয়তা সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন ঠেকাতে এই ধরনের আইনি সুরক্ষাকবচ বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
কেএন/এসএন