© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বডি পেইন্ট ফটোশুট বিতর্ক নিয়ে পূজা ভাটের নতুন মন্তব্য

শেয়ার করুন:
বডি পেইন্ট ফটোশুট বিতর্ক নিয়ে পূজা ভাটের নতুন মন্তব্য

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩০ পিএম | ০১ জুন, ২০২৬
নব্বইয়ের দশকে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন পূজা ভাট। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের সাহসী সিদ্ধান্ত ও স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি প্রায়ই খবরের শিরোনাম হয়েছেন।

সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল একটি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের জন্য তাঁর করা বডি পেইন্ট ফটোশুট, যা প্রকাশের পর ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর সেই ফটোশুট নিয়ে আবারও কথা বললেন পূজা ভাট।

সম্প্রতি সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছবিটি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা কখনোই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং এটি ছিল একটি সৃজনশীল ভাবনার অংশ, যা তিনি প্রথম দেখাতেই পছন্দ করেছিলেন।

পূজা বলেন, ‘একদল মানুষের কাছ থেকে আমি প্রচুর সমালোচনা পেয়েছিলাম, আবার আরেক দল মানুষের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসাও পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার কাছে এটি কখনোই বিতর্ক তৈরির জন্য করা হয়নি।’

অভিনেত্রীর ভাষ্য, সেই ফটোশুটের ধারণা এসেছিল হলিউড তারকা ডেমি মুরের বিখ্যাত ভ্যানিটি ফেয়ার কভার থেকে। সাংবাদিক দিনেশ রাহেজা তাঁকে সেই প্রচ্ছদ দেখান এবং একই ধরনের একটি কভার পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব দেন।



ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী পূজা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘দিনেশ রাহেজা, যাঁর প্রতি আজও আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে, তিনি আমাকে ডেমি মুরের কভার দেখান। দিনেশ ও জিতু আমার সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, “পূজা, এই কভারটা দেখো।” আমি ছবিটি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ডেমি মুরকে দারুণ লাগছিল। তাঁরা বললেন, এ ধরনের একটি ছবি পুনর্নির্মাণ করতে চান এবং জানতে চাইলেন, আমি রাজি কি না।

আমি সঙ্গে সঙ্গেই বলেছিলাম, অবশ্যই।’

তিনি জানান, ফ্যাশন ডিজাইনার আনা সিংয়ের তত্ত্বাবধানে ফটোশুটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সে সময় একটি চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।

পূজা বলেন, ‘আমি তখন “ফির তেরি কাহানি ইয়াদ আয়ি” ছবির “তেরে দর পার সনম” গানের শুটিং করছিলাম। রাত প্রায় সাড়ে নয়টার দিকে কাজ শেষ করে আমি আলোকচিত্রী জগদিশ মালির বাড়িতে যাই। সেখানে আমার শরীরে পেইন্ট করা হয় এবং ফটোশুট সম্পন্ন হয়। এরপর বিষয়টি আমি একেবারেই ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু ম্যাগাজিনটি প্রকাশের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।’

ছবিটি প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও সে সময় দেশের অন্য বড় ঘটনাগুলো জনমতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠায় বিতর্কটি ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায় বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে পূজা বলেন, ‘ম্যাগাজিনটি বের হওয়ার পর বেশ হইচই পড়ে যায়। তবে এরপরই শহরে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। বোমা হামলার মতো ভয়ংকর ট্র্যাজেডি ঘটে যায়।

স্বাভাবিকভাবেই তখন মানুষের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না কোনো নারী নিজের শরীরে রং করে ছবি তুলেছেন কি না।’

সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত ধারণারও জবাব দেন এই অভিনেত্রী। অনেকেই মনে করতেন, ওই ফটোশুটে তিনি সম্পূর্ণ নগ্ন ছিলেন। তবে সেই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন পূজা।

তিনি বলেন, ‘আমি ওই ছবিতে নগ্ন ছিলাম না। ডেমি মুরের ক্ষেত্রে “বার্থডে স্যুট” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল, যার অর্থ তিনি বডি পেইন্টের নিচে সম্পূর্ণ নগ্ন ছিলেন। কিন্তু আমি তা ছিলাম না।’

পূজা আরো বলেন, ‘আমি অন্তর্বাস পরে ছিলাম। কারণ, আমরা খুব ভালোভাবেই জানতাম, সীমারেখা কোথায় এবং আমরা সেই সীমা অতিক্রম করিনি। আমি এটি করেছি কারণ ধারণাটি আমার ভালো লেগেছিল। যাঁদের সঙ্গে কাজ করছিলাম, তাঁদের ওপর আমার আস্থা ছিল। তাই কাজটি করেছি। বিতর্ক সৃষ্টি করার কোনো ইচ্ছা ছিল না। আমি শুধু নিজের মতো ছিলাম।’

তাঁর মতে, সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে ছবিটি অনেকের কাছে সাহসী মনে হলেও এর পেছনে চমক সৃষ্টি বা আলোড়ন তোলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ছবিটি নিয়ে আলোচনা হওয়াকে বিস্ময়কর মনে করেন পূজা।

পূজার ভাষায়, ‘সম্প্রতি আবারও ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে “কাল্ট ইমেজ” বলছেন। কিন্তু এ ধরনের কিছু পরিকল্পনা করে তৈরি করা যায় না। আমি শুধু নিজের মতো ছিলাম। সমস্যা হলো, আমরা এখন এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে মিথ্যার আধিক্য এত বেশি যে সত্যটাই আজ বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।’

এসএন 

মন্তব্য করুন