© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে নতুন তথ্যইরানের হামলায় ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: বিবিসি

শেয়ার করুন:
ইরানের হামলায় ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: বিবিসি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৩৪ পিএম | ০১ জুন, ২০২৬
যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে বরাবরই দাবি করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে নতুন এক বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। স্যাটেলাইট ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের সময় ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা অন্তত ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) প্রকাশিত বিবিসি ভেরিফাইয়ের ওই বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে দেখা গেছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরান হামলা চালিয়েছিল। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্যাটেলাইট ছবি এবং স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটের সংরক্ষিত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

অবশ্য হোয়াইট হাউস বারবার দাবি করেছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যে ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, তা থেকে বোঝা যায় ইরানের পাল্টা হামলা মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে যতটা স্বীকার করেছেন, তার চেয়ে বেশি নিখুঁত ও ব্যাপক ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা হামলায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদের বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা তিনটি উন্নত অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবির বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী ও নজরদারি বিমানগুলোও ইরানের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান এবং আগুনে পোড়া দাগের চিহ্নও দেখা গেছে।

মিলিটারি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স অ্যাসেসমেন্ট রিসার্চের (এমএআইএআর) এক বিশ্লেষক ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানগুলোর মধ্যে একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান শনাক্ত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এমন একটি বিমান প্রতিস্থাপনে ৭০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এছাড়া কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং ক্যাম্প আরিফজানেও ইরানের হামলার প্রভাব দেখা গেছে।

এমএআইএআরের বিশ্লেষকেরা স্যাটেলাইট ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত জ্বালানি সংরক্ষণ বাঙ্কার, বিমান হ্যাঙ্গার এবং সেনাদের আবাসন শনাক্ত করেছেন। তাদের মতে, সংঘাত চলাকালে ঘাঁটিগুলো একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান জেনস জানিয়েছে, ক্যাম্প আরিফজানে স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থার সরঞ্জাম উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী কোনও সমাধান আসেনি। এরপর থেকে সংঘাতের অবসান এবং সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে দুই পক্ষ একে অপরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন