‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধনে রুমিন ফারহানা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৭ পিএম | ০১ জুন, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
আজ সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টায় শাহবাজপুর ইউনিয়নের প্রথম গেইট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির সাবেক নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতিকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে রুমিন ফারহানা স্পষ্ট জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো বিশেষ মহল এবং দলের নয়, বাংলাদেশের আপামোর মানুষের জনযুদ্ধ ছিল। একইভাবে ২৪ সালের গণআন্দোলনে বাংলাদেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।
তিনি আরও জানান, কেউ যদি বাংলাদেশের গণ আন্দোলনকে কুক্ষিগত করতে চায়, তার পরিণতি অতীতে যেমন ভালো হয়নি, ভবিষ্যতেও তার পরিণতি ভালো হবে না।
রুমিন ফরাহানা বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২০২১ সালে সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সংগীতাঙ্গল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি সিনেমা হল নেই। এখানে কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না। এই কালো নকশা কারা করছেন? যারা বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে চায়, যারা বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারাই বাংলাদেশের এই সংস্কৃতির রাজধানী ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে একটি সিনেমা যেটি পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মতো সেই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
এই সিনেমাটি কেন বন্ধ করে দেয়া হলো? আমি যদি প্রশ্ন রাখি, যে রাষ্ট্র ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ আর বলাৎকার থেকে রক্ষা করতে পারে না, যে রাষ্ট্র ৭০ বছরের বৃদ্ধকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না, প্রতিদিন গড়ে মানুষ খুন হয়, যে রাষ্ট্রের দুর্নীতি দুঃশাসন, টাকা পাচার-ব্যাংক লোট, কোনোরকম কোন অন্যায় বন্ধ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধের মদদ দেয়?
তিনি আরও বলেন,
‘আমরা গত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, একটার পর একটা মাজার ভাঙ্গা হয়েছে, কবর থেকে তুলে নিয়ে লাশ পোড়ানো হয়েছে। আমরা দেখেছি দক্ষিণ পন্থা, ডানপন্থা উগ্রবাদের উত্থান। কিন্তু আমার দেশের মাটি তো এমন ছিল না। এদেশের মাটিতে আজানের সুমধুর ধ্বনি যেমন আমরা শুনেছি, আমরা বাউল গানও শুনেছি। এদেশের মাটিতে সকালবেলা যেমন কোরআন তেলাওয়াত শুনেছি, আবার ছোট ছোট বাচ্চারা হারমোনিয়াম নিয়ে সংগীত চর্চা করেছে সেটাও আমরা দেখেছি। কারা এই বাংলাদেশের মাটিকে মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়?এই প্রশ্ন আমি আপনাদের মাধ্যমে রেখে যাচ্ছি। উত্তর রাষ্ট্রের কাছে আমার দাবি থাকবে।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন,
যে রাষ্ট্র কোন অপরাধ বন্ধ করতে পারে নাই, যে রাষ্ট্র ছোট ছোট শিশুদেরকে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাতে পারে নাই, সে রাষ্ট্র কী করে আজকে বাংলাদেশকে যেখানে সব রকম সংস্কৃতি কর্মকাণ্ড ধর্মের পাশাপাশি চলেছে, সেটাকে বন্ধ করে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার মদদ দিচ্ছে? আমি বলে রাখি, তোমাকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে।
সবশেষে রুমিন ফারহানা বলেন,
আপনাদের মদদে যারা আজকে গান বাজনা সংস্কৃতি কর্মকাণ্ড সব কিছু শক্ত করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস পাচ্ছে, একদিন তাদের হাতে আপনারা কিন্তু পরাজিত হবেন। আমি আশা রাখবো শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমরা যেন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে না রাখি। এরকম রাষ্ট্র আশা করি না যে রাষ্ট্র মানুষকে পেছনের দিকে নিয়ে যাবে, যে রাষ্ট্র একটা অসাম্প্রদায়িক সকলের বাংলাদেশকে কোন বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেবার ষড়যন্ত্র করবে!
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা উদিচির সাধারণ সম্পাদক,উপদেষ্টা ফেরদৌস রহমান, সরাইল উদিচির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইফতেখার জাবেদ, সোনালী সকালের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মুনতাসির সহ সংস্কৃতি অঙ্গনের নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে বিকেল তিনটার পর থেকে শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় পুলিশী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যেকোনো ধরনের অপতৎপড়তা রোধে নিয়োগ করা হয় জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটকে।
টিজে/টিকে