নাট্যজন মমতাজউদ্দীনকে স্মরণ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৬ পিএম | ০২ জুন, ২০২৬
সকলে হাঁটেন, আর কেউ কেউ পথ দেখান। তেমনই একজন পথিকৃৎ মমতাজউদ্দীন আহমদ। দেশের মঞ্চনাটকের প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। নিজে মঞ্চনাটক করেছেন, আর পথ গড়ে দিয়ে গেছেন পরবর্তী কয়েক প্রজন্মের জন্য। আজ এই নন্দিত নাট্যজনের প্রয়াণ দিবস। ২০১৯ সালের আজকের দিনে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।
নাটকের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও মমতাজউদ্দীন আহমদের বিস্তৃতি আরও বিশাল। সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন মাতৃভাষার আন্দোলন ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও। লেখালেখি আর শিক্ষকতায়ও ছড়িয়েছেন সমান দ্যুতি।
মমতাজউদ্দীন আহমদের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি, ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহে। শিক্ষাজীবনের শুরুটাও সেখানেই। দেশভাগের পর আসেন বাংলাদেশে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন রাজশাহী কলেজে। কর্মজীবনের শুরুটা শিক্ষকতা দিয়ে। দীর্ঘ ৩২ বছর যুক্ত ছিলেন এই পেশায়। পড়িয়েছেন চট্টগ্রাম কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৬-৭৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নেও বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
দেশ স্বাধীনের পর নিবিড়ভাবে নাট্য আন্দোলনে মিশে যান তিনি। মমতাজউদ্দীন আহমদের লেখা জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বিবাহ’, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘বর্ণচোরা’, ‘এই সেই কণ্ঠস্বর’, ‘সাতঘাটের কানাকড়ি’, ‘রাজা অনুস্বরের পালা’, ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’, ‘সুখী মানুষ’, ‘রাজার পালা’, ‘সেয়ানে সেয়ানে’, ‘কেস’, ‘ভোটরঙ্গ’, ‘উল্টো পুরান’, ‘ভেবে দেখা’ ইত্যাদি। তার লেখা নাটক ‘কি চাহ শঙ্খ চিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বরের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভূক্ত। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতেও আছে তাঁর ‘রাজা অনুস্বরের পালা’।
লেখালেখি দিয়েও দেশের নাট্যচর্চা ও ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন মমতাজউদ্দীন আহমদ। তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত’, ‘বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত’, ‘প্রসঙ্গ বাংলাদেশ’, ‘প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু’, ‘আমার ভেতরে আমি’, ‘জগতের যত মহাকাব্য’, ‘মহানামা কাব্যের গদ্য রূপ’, ‘সাহসী অথচ সাহস্য’, ‘নেকাবী এবং অন্যগণ’, ‘সজল তোমার ঠিকানা’, ‘এক যে জোড়া, এক যে মধুমতি’, ‘অন্ধকার নয় আলোর দিকে’ ইত্যাদি।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন মমতাজউদ্দীন আহমদ। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি বিশেষ সম্মাননা, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারও পেয়েছেন এই গুণী।
এসএ/টিকে