© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

শেয়ার করুন:
সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫৯ পিএম | ০২ জুন, ২০২৬
ছেলেরা বুয়েট শিক্ষক ও যুগ্ম সচিব, নিজ ঘরে বৃদ্ধা মায়ের মরদেহে পচন ধরলেও খোঁজ নেয়নি কেউ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোড়ন তুলেছে। এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি একটি বৃদ্ধা নারীর করুণ মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ‘সাত-আট দিন আগে ময়লার ভাগাড়ের মতো এই ঘরে মরে পচে গেছেন এমন এক বৃদ্ধা, যার এক ছেলে বুয়েট শিক্ষক, আরেক ছেলে যুগ্ম সচিব, অন্য ছেলে কানাডাপ্রবাসী। এ দেশের অধিকাংশ মা-বাবা সন্তানকে কথিত সফলতার যে স্বপ্নচূড়ায় দেখতে চান, বৃদ্ধার তিন ছেলেই জাগতিক সাফল্যের সেই স্বর্ণচূড়া স্পর্শ করেছেন।

কিন্তু মাঝখানে একটা ঈদ গেল, মা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছেন, ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে থাকা সন্তানদের খোঁজ নেওয়ার হয়তো সুযোগটুকুও ঘটেনি। একাকী ঘরের মধ্যে মরে শরীরের মাংস খসে খসে পড়েছে বৃদ্ধার।’
তিনি আরো লেখেন, ‘যে সফলতা মা-বাবার ভালোবাসা ভুলিয়ে দেয়, যে সফলতা মৃত্যুর সময়ও এক আঁজলা পানি নিয়ে মায়ের মাথার কাছে বসার ফুরসত দেয় না, আমাদের প্রয়োজন নেই এমন সফলতার।’

আহমাদুল্লাহ আরো বলেন, ‘দ্বিন, মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং মানুষ হওয়ার শিক্ষাকে পাশ কাটিয়ে যত দিন আমরা শুধু বস্তুবাদ ও বৈষয়িক সফলতার পেছনে ছুটব, তত দিন এই ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের দেখে যেতে হবে। আসুন, শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হই। সন্তানকে শিক্ষিত বানানোর আগে মানুষ বানাই।’

প্রসঙ্গত, রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর এলাকায় একটি বাসা থেকে নূরজাহান বেগম (৭২) নামের এক বৃদ্ধা নারীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে কোনো খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ এবং পারিবারিক দায়িত্বহীনতা নিয়ে ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (৩১ মে) গভীর রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের ওই বাসায় যায়। পরে বাসার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশের ধারণা, নূরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাত থেকে আট দিন আগে। এ সময় মরদেহে পচন ধরেছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পচনজনিত ক্ষয় দেখা যায়।

এসএ/টিএ


মন্তব্য করুন