আবারও ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের, নেপথ্যে কারণ কী?
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৩ পিএম | ০৩ জুন, ২০২৬
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই দেশটির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
মূলত জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগে ভারতসহ অর্ধশতাধিক দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।
যদিও প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে অন্তত ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আইনি বাধার মুখে পড়ার পর তাদের শুল্কনীতি নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) প্রস্তাবিত এই শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) ভোরে প্রকাশিত ইউএসটিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
অন্যদিকে, চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এটি কার্যকর হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের আরোপিত কিছু সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে নতুন শুল্ক কার্যকর করতে পারবেন।
যেভাবে নতুন শুল্ক আরোপ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র-
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১(বি)(১) ধারার আওতায় কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে ব্যবস্থা নিয়েছে কি না এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে কী প্রভাব ফেলছে, তা খতিয়ে দেখা।
মঙ্গলবার ইউএসটিআর জানায়, ৫৪টি দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ বা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় চীন, ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, ইরাক, ইসরায়েল, জাপান, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং যুক্তরাজ্যসহ আরও অনেক দেশ রয়েছে।
এছাড়া কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও পাকিস্তানকে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইউএসটিআরের প্রধান জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিষয়টি মোকাবিলায় আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়’। তিনি বলেন, ‘এর ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে মার্কিন শ্রমিকদের অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অবশ্য প্রস্তাবিত শুল্কে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। গরুর মাংস, কফি এবং নির্দিষ্ট কিছু ফল ও বাদামের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকা কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্য এবং কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যও ছাড় পাবে।
জনসাধারণ আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত লিখিত মতামত দিতে পারবেন। এরপর ইউএসটিআর এ বিষয়ে শুনানির আয়োজন করবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত বেশ কিছু শুল্ক বাতিল করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরও দীর্ঘস্থায়ী শুল্ক আরোপের পথ খুঁজতে নতুন এই তদন্ত শুরু করেন।
জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত তদন্ত ছাড়াও অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর।
এফআর/টিকে