৪১ বছরের রোনালদো, পর্তুগালের স্বপ্ন নাকি দুঃস্বপ্ন?
ছবি: সংগৃহীত
১২:১৪ পিএম | ০৪ জুন, ২০২৬
৪০ পেরোনো বুড়োদের মেলা বসছে আমেরিকায়। লিওনেল মেসি ৩৯ বছরে পা দিয়েও আর্জেন্টিনার আশার আলো। লুকা মদ্রিচ কিংবা এডিন জেকোর মতো যোদ্ধারা এখনওদলের মেরুদণ্ড। কিন্তু এইসব আলোচনা ছাপিয়ে যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে, তা হলো ৪১ বছর বয়সী রোনালদো কীপর্তুগালের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবেন?
মেসি বনাম রোনালদো, দুই মেরুর গল্প।৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়ে লিওনেল মেসি ফুটবলকে বিদায় জানাবেন, এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে। কিন্তু তিনি এখনওখেলছেন। ৩৯ বছর বয়সী মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে ইনজুরিতে পড়ার পরও আর্জেন্টিনার কোচ বা সমর্থকেরা চিন্তিত নন। কারণমেসি এখনওম্যাচের চিত্র এক তুড়িতে বদলে দিতে পারেন।
মেসি হয়তো এখনওইউরোপের শীর্ষ লীগের গতিতে ৯০ মিনিট দৌড়াতে পারবেন না। কিন্তু আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজ বা রদ্রিগো দি পলের মতো তরুণরা যদি মেসির হয়ে মাঠে জানবাজি রেখে দৌঁড়ায়, তবে মেসির এক একটা রক্ষণচেরা পাস বা জাদুকরী ফ্রি-কিক পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট।
অর্থাৎমেসিকে খেলানোর জন্য আর্জেন্টিনার দল যে স্যাক্রিফাইস বা ত্যাগ স্বীকার করছে, তার ফল তারা হাতেনাতে পাচ্ছে। কিন্তু রোনালদোর গল্পটা একেবারেই আলাদা। এখানে আছে এক নির্মম সত্য।

রোনালদো এখন আর সেই রোনালদো নন, যিনি উইং দিয়ে চিতার গতিতে বল কেটে বক্সে ঢুকে যেতেন। এমনকি তিনি সেই রোনালদো নন, যিনি রিয়াল মাদ্রিদের শেষের দিনগুলোয় কেবল ডি-বক্সের ভেতর শিকারী বাঘের মতো ওঁৎ পেতে থাকতেন।
৪১ বছর বয়সে রোনালদোর প্রভাবের পরিধি সংকুচিত হতে হতে একদম ছোট হয়ে এসেছে। এয়ারে তিনি এখনওদারুণ। ফিনিশিংটাও রক্তে আছে।কিন্তু মাঠে তার মুভমেন্ট এখন এতটাই সীমিত যে আধুনিক ফুটবলের হাই-প্রেসিং গেমের সঙ্গে তিনি আর খাপ খাওয়াতে পারছেন না।
রোনালদো সৌদি প্রো লীগ জয় করেছেন ঠিকই, কিন্তু সেটা রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের চেয়ে সৌদির লীগের দুর্বল রক্ষণভাগেরই প্রমাণ দেয় বেশি।
পর্তুগালের সোনালী প্রজন্ম কীরোনালদোর আড়ালে ঢাকা পড়ছে?
পর্তুগাল ফুটবল দল এখন তার ইতিহাসের অন্যতম সেরা সোনালী প্রজন্ম বা গোল্ডেন জেনারেশন পার করছে। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লিয়াও, জোয়াও ফেলিক্সদের মতো বিশ্বমানের ক্রিয়েটর বা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এখন পর্তুগাল দলে।
তারা গতিময়, আধুনিক এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করতে ওস্তাদ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যখনই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মাঠে থাকেন, পুরো দলের কৌশল বদলে যায়। সবাইকে তখন রোনালদোকে বল জোগান দেয়ার জন্য খেলতে হয়। অথচ রোনালদো নিজে এখন আর প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করার মতো গতি বা ড্রিবলিং দেখাতে পারেন না।
ফলে পর্তুগালের এই প্রতিভাবান তরুণরা মাঠে তাদের ডানা মেলতে পারছেন না। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের কথা মনে আছে তো?
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নক-আউট ম্যাচে, যখন রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে তরুণ গনসালো রামোসকে নামানো হলো, পর্তুগাল যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। তারা সুইজারল্যান্ডকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিল। রামোস করলেন হ্যাটট্রিক। মাঠের সেই গতি, সেই পাসিং ছিল দেখার মতো।
কিন্তু ট্রাজেডি হলো, স্টেডিয়ামের দর্শকরা কিন্তু রামোসের হ্যাটট্রিক উদযাপনের চেয়ে রোনালদো কখন মাঠে নামবেন, তা নিয়েই বেশি মেতে ছিল।রোনালদো যখন নামলেন, একটা অফসাইড গোল করে চিরচেনা সিউ উদযাপন করলেন। গ্যালারি তাতেই ধন্য হয়ে গেল।
রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই বয়সে তার সিক্স প্যাক কিংবা পেশির গঠন যে কোনো তরুণকে লজ্জা দেবে। কিন্তু ফুটবল তো শুধু ফিটনেস টেস্ট নয়। ফুটবল হলো দলগত রসায়ন আর গতির খেলা।
রোনালদো যখন মাঠে অলস দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাজ সহজ হয়ে যায়। পর্তুগাল তখন অলিখিতভাবে ১০ জনের দলে পরিণত হয়।
এমআর/টিএ