যার হাত ধরে বলিউডে এসেছিলেন গোবিন্দ-চাঙ্কি পান্ডে, সেই পহেলাজ নিহালনি আর নেই
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫৭ পিএম | ০৪ জুন, ২০২৬
বলিউডের প্রবীণ প্রযোজক, পরিচালক ও সাবেক সেন্সর বোর্ড চেয়ারম্যান পহেলাজ নিহালনি আর নেই। আজ (৪ জুন) তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি তার লিভার-সংক্রান্ত সমস্যাও ধরা পড়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
পহেলাজ নিহালনি বলিউডে এক পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। তার প্রযোজিত সিনেমার মাধ্যমেই বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে একাধিক জনপ্রিয় তারকার। বিশেষ করে বলিউড সুপারস্টার গোবিন্দর চলচ্চিত্রজগতে যাত্রা শুরু হয় তার হাত ধরেই। ১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইলজাম’ সিনেমার মাধ্যমে গোবিন্দর অভিষেক ঘটে।
শুধু গোবিন্দই নন, অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডের বলিউড অভিষেকও ঘটে পহেলাজ নিহালনির প্রযোজনায়। ১৯৮৭ সালের ‘আগ হি আগ’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় দেখা যায় চাঙ্কি পান্ডেকে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিক ব্যবসাসফল ও আলোচিত সিনেমা প্রযোজনা করেছেন পহেলাজ নিহালনি। তার উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ‘আঁধি-তুফান’, ‘ইলজাম’, ‘গুনাহোঁ কা ফয়সলা’, ‘পাপ কি দুনিয়া’, ‘মিট্টি অউর সোনা’, ‘শোলা অউর শবনম’, ‘আঁখে’, ‘আন্দাজ’, ‘তালাশ’, ‘রঙ্গীলা রাজা’ এবং ‘জুলি ২’।
১৯৮২ সালে ‘হাথকড়ি’ সিনেমার মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর টানা কয়েক দশক ধরে হিন্দি চলচ্চিত্রে সক্রিয় ছিলেন এই প্রযোজক। শুধু প্রযোজনা নয়, পরবর্তী সময়ে তিনি পরিচালনার কাজেও যুক্ত হন। ২০১২ সালে তিনি ‘অবতার’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন গোবিন্দা।
এছাড়া ২০০৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাল্লা বোল’ সিনেমায় একটি অতিথি চরিত্রেও দেখা যায় তাকে। চলচ্চিত্রের বাইরেও দীর্ঘদিন বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন পহেলাজ নিহালনি। তিনি প্রায় ২৯ বছর ‘অ্যাসোসিয়েশন অব পিকচার্স অ্যান্ড টিভি প্রোগ্রাম প্রডিউসার্স’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ২০১৫ সালে ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)- এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তার নেতৃত্বকাল ঘিরে একাধিক বিতর্কও তৈরি হয় বলিউডে, বিশেষ করে চলচ্চিত্রে কাটছাঁট ও সেন্সর নীতির কঠোর অবস্থান নিয়ে।
এসএ/টিএ