‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বন্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া আফজাল হোসেনের
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪৩ পিএম | ০৪ জুন, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তানিম নূর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে নির্মাতা, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এবার সেই আলোচনায় যুক্ত হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন।
জানা গেছে, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘটনার বিষয়ে মত প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেন।
আফজাল হোসেন তার স্ট্যাটাসে ইঙ্গিত করেন, সমাজে অকালেই নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং ভিন্ন মত বা সংস্কৃতির প্রতি অসহিষ্ণুতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যার জন্ম দিতে পারে। তার মতে, মানুষ ধীরে ধীরে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিণত হয়, আর সেই স্বাভাবিক বিকাশের পথ বাধাগ্রস্ত হলে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
তিনি আরও লেখেন, ভালো-মন্দ বোঝার প্রক্রিয়া মানুষের শেখার অংশ। অভিজ্ঞতা ও সময়ের মাধ্যমে মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে শেখে কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়। এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হলে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আফজাল হোসেন তার স্ট্যাটাসে আরও বলেন, মানুষ ও সমাজকে বোঝার জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা এবং সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। কোনো কিছুই একদিনে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে না-মানুষও নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংস্কৃতি মানুষের চিন্তার পরিসর বাড়ায় এবং উদারতা তৈরি করে। তাই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা হলে তা সমাজের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।
এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। নির্মাতা ও বিভিন্ন শিল্পী বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন।
আফজাল হোসেনের এই প্রতিক্রিয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসএ/টিএ