© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘কালা হিরণ’-এর প্রযোজককে প্রাণনাশের হুমকি!

শেয়ার করুন:
‘কালা হিরণ’-এর প্রযোজককে প্রাণনাশের হুমকি!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:২৬ পিএম | ০৪ জুন, ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হতে যাওয়া একটি চলচ্চিত্র নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলিউডে। ‘কালা হিরণ’ নামের এই ছবিকে ঘিরে একদিকে যেমন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ছবির প্রযোজক প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছেন।

১৯৯৮ সালে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলাকালে রাজস্থানের যোধপুর জেলার কঙ্কানি গ্রামে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সালমান খানের বিরুদ্ধে। সেই মামলাকে ঘিরে বহু বছর ধরে চলছে আইনি লড়াই। এবার সেই ঘটনাকে ভিত্তি করে ‘কালা হিরণ’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে ছবিটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সালমান খানের আইনি দল। তারা নির্মাতাদের কাছে একটি কড়া আইনি নোটিস পাঠিয়েছে। নোটিসে দাবি করা হয়েছে, মামলাটি এখনও আদালতের বিবেচনাধীন থাকায় এই ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ অভিনেতার ভাবমূর্তি ও ব্যক্তিগত অধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আইনি নোটিস প্রকাশ্যে আসার পর নতুন অভিযোগ নিয়ে সামনে এসেছেন ছবির প্রযোজক অমিত জানি। তার দাবি, নোটিস পাওয়ার পর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে অসংখ্য হুমকিমূলক বার্তা পাচ্ছেন। এমনকি তাকে হত্যা এবং মুম্বাইয়ে গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।



অমিত জানির ভাষ্য, গত কয়েক দিনে বিপুল সংখ্যক বার্তা তার কাছে এসেছে। এসব বার্তার মধ্যে প্রাণনাশের হুমকি ছাড়াও ভয়ভীতি প্রদর্শনের নানা চেষ্টা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, কিছু বার্তায় অপরাধ জগতের নাম ব্যবহার করেও ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব বার্তার সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন বলেও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে সালমান খানের আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করলে তা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং এটি মানহানিকরও হতে পারে।

নোটিসে আরও বলা হয়েছে, সালমান খান কখনও এই চলচ্চিত্রে তার নাম, ব্যক্তিত্ব বা তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো ঘটনার ব্যবহার করার অনুমতি দেননি। ফলে তার সম্মতি ছাড়া এমন উপস্থাপনাকে আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছে অভিনেতার পক্ষ।

সব মিলিয়ে ‘কালা হিরণ’ এখন শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং আইনি ও নৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে নির্মাতাদের অবস্থান, অন্যদিকে সালমান খানের আইনি আপত্তি- এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন