© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পুশইন ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয়রা

শেয়ার করুন:
পুশইন ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় স্থানীয়রা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৩৭ এএম | ০৬ জুন, ২০২৬
ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন), চোরাচালান ও মাদক পাচার ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাহারায় অংশ নিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষও।


লাঠিসোঁটা, বাঁশি ও শক্তিশালী টর্চলাইট নিয়ে রাতভর সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে স্থানীয়দের। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মেহেরপুর সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও টহল ও নজরদারিতে সক্রিয় রয়েছেন। অনেককে দলবদ্ধভাবে সীমান্ত এলাকায় পাহারা দিতে দেখা গেছে।

তিন দিক দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত বেষ্টিত মেহেরপুর জেলার মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এবং বাকি সীমান্ত চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন।


বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সকল বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এবং একটি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) থেকে প্রতিদিন টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

সীমান্তের কয়েকটি পয়েন্টে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে লোকসমাগমের তথ্য পাওয়ার পর সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির দাবি, যেসব এলাকা দিয়ে পুশইনের আশঙ্কা থাকে, সেসব স্থানে অনেক সময় ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতার সংলগ্ন আলোগুলো নিভিয়ে রাখা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত টহল, পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষ সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


কাথুলী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. অছিকুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফ নিয়ম না মেনে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। দুই দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই করে কাউকে ফেরত পাঠানো হলে সেটি ভিন্ন বিষয়। তবে অবৈধভাবে লোকজনকে সীমান্ত পার করার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল আহসান বলেন, সীমান্ত রক্ষা শুধু বিজিবির নয়, সবার দায়িত্ব। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশইনের চেষ্টার তথ্য পাওয়ার পর আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত।

কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, মেহেরপুর সীমান্তের ৩৬ কিলোমিটার এলাকা আমাদের দায়িত্বে রয়েছে। বাকি অংশ চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির আওতাধীন। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পাটক্ষেত থাকায় দূর থেকে পর্যবেক্ষণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্ত সংলগ্ন আবাদি জমির কৃষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক পাচার বা পুশইন যাতে না হয়, সেজন্য স্থানীয়রা দলে দলে বিজিবির সঙ্গে পাহারায় যোগ দিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন