© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অবসাদের বিরুদ্ধে দশ বছরের লড়াই দীপিকার

শেয়ার করুন:
অবসাদের বিরুদ্ধে দশ বছরের লড়াই দীপিকার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৫০ এএম | ০৬ জুন, ২০২৬
রুপালি পর্দার ঝলমলে আলো, সাফল্যের শিখর আর কোটি ভক্তের ভালোবাসা-বাইরে থেকে দেখলে যেন সবই ছিল নিখুঁত। কিন্তু সেই আলো ঝলমলে জীবনের আড়ালেই এক সময় গভীর মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই করছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। সেই কঠিন অধ্যায় শুধু তার জীবনই বদলে দেয়নি, বদলে দিয়েছিল অসংখ্য মানুষের জন্য তার ভাবনাও।

প্রায় এক দশক আগে নিজের মানসিক অবসাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে আলোড়ন তুলেছিলেন দীপিকা। সেই সময় অনেকেই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সংকোচ বোধ করলেও তিনি সাহস করে নিজের সংগ্রামের কথা জানিয়েছিলেন। তবে শুধু নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েই থেমে থাকেননি এই অভিনেত্রী। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘লিভ লাভ লাফ’ নামে একটি সংস্থা, যার লক্ষ্য ছিল অবসাদ ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে সচেতনতা তৈরি করা।

দীপিকার এই উদ্যোগের পেছনের আসল কারণ নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন তার বাবা প্রকাশ পাড়ুকোন। তিনি জানান, মেয়ের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি বেদনাদায়ক ঘটনা তাকে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলেছিল। অবসাদের কারণে নিজের এক বন্ধুকে হারিয়েছিলেন দীপিকা। সেই শোক তিনি সহজে মেনে নিতে পারেননি। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল এবং এরপর থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে আরও বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠেন তিনি।



দীপিকার জীবনের সেই সময়টাও ছিল বেশ কঠিন। কর্মজীবনে সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করলেও ভেতরে ভেতরে তাকে গ্রাস করছিল অজানা ভয়, উদ্বেগ ও হতাশা। একসময় এমন দিনও গেছে, যখন তিনি মনে করতেন ঘুমিয়ে পড়লেই হয়তো সব সমস্যার সমাধান হবে। এমনকি আত্মহননের চিন্তাও তার মাথায় এসেছিল বলে আগেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

এই সংকটের প্রথম ইঙ্গিত পেয়েছিলেন তার মা। দীপিকার ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম কিংবা কাজ— নানা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বুঝতে পারেন মেয়ের মধ্যে কিছু একটা পরিবর্তন এসেছে। দীপিকা কোনো প্রশ্নেরই স্বাভাবিক উত্তর দিতে পারছিলেন না। তখনই তার মা উপলব্ধি করেন যে পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা প্রয়োজন।

বাবা প্রকাশ পাড়ুকোনও মনে করেন, মানসিক অসুস্থতার সময় পরিবারের সমর্থন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, শরীর ও মন- দুটোই সুস্থ থাকলে তবেই মানুষ নিজের কর্মক্ষেত্রে সফল হতে পারে। তিনি বলেন, মেয়ে যে কাজটি শুরু করেছে, তা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মূল্য একদিন অবশ্যই পাওয়া যাবে।

বেঙ্গালুরু থেকে যাত্রা শুরু করা ‘লিভ লাভ লাফ’ এখন শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও কাজ করছে। আর দীপিকা পাড়ুকোন আজ শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতারও অন্যতম মুখ। নিজের কষ্ট, শোক আর সংগ্রামকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা এখনও অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

 এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন