© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে ৭০ লাখ কনডম বিতরণ করছে মেক্সিকো, ফ্রি দিচ্ছে কানাডা

শেয়ার করুন:
ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে ৭০ লাখ কনডম বিতরণ করছে মেক্সিকো, ফ্রি দিচ্ছে কানাডা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৪৫ পিএম | ০৯ জুন, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপ- ২০২৬ ঘিরে যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে বড় ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মেক্সিকো। দেশটি বিশ্বকাপ চলাকালে দর্শনার্থীদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে কানাডাও বিশ্বকাপ-থিমভিত্তিক বিশেষ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করছে।

আগামী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে লাখো বিদেশি দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশা করছে মেক্সিকো। সেই প্রেক্ষাপটে সিফিলিস, গনোরিয়া ও এইচআইভি-সহ বিভিন্ন যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিমানবন্দর, স্টেডিয়াম, বার, রেস্তোরাঁ এবং বিনোদনকেন্দ্রে কনডম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যপত্র বিতরণ করা হবে।

তিন শহরে ১৩ ম্যাচ, বিশাল স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি
কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের পরিস্থিতির সঙ্গে এবারকার আয়োজনের বড় পার্থক্য রয়েছে। কাতারে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় আয়োজকেরা যৌনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচারণা প্রকাশ্যে পরিচালনা করেননি। তবে মেক্সিকোতে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগত সমর্থকদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিতরণ করা হবে।

২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর তিনটি ভেন্যুতে মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটি, জালিস্কো এবং মনতেরেতে ৩৯ দিনব্যাপী টুর্নামেন্ট চলাকালে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর মাধ্যমে ৪০ থেকে ৫০ লাখ কনডম বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও প্রায় ২০ লাখ কনডম বিতরণ করবে।

মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন বিশ্বকাপ স্বাস্থ্য পরিচালনা কমান্ডের সদস্য রোকসানা ত্রেহো বলেন, এই উদ্যোগ শুধু কনডম বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ যৌন আচরণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া।

তিনি মেক্সিকান সংবাদপত্র এল সল দে মেক্সিকো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা বিমানবন্দর এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশস্থলগুলোতে বিশেষ বুথ স্থাপন করছি, যেখানে মানুষ কনডমের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক তথ্যসম্বলিত লিফলেটও পাবে। কারণ তথ্য ছাড়া কনডম দেওয়া মানে পকেটে শুধু একটি মিষ্টি তুলে দেওয়ার মতো।

বার, নাইটক্লাব ও ফ্যান ফেস্টেও থাকবে কনডম

রোকসানা ত্রেহো, যিনি ‘হাসপাতালস উইদাউট ইনফেকশনস’ উদ্যোগের মুখপাত্রও, জানান যে শুধু বিমানবন্দর নয়, সমর্থকেরা সাধারণত যেখানে উদ্‌যাপন করতে যান- সেসব নাইটক্লাব, বার ও রেস্তোরাঁতেও কনডম ও তথ্যপত্র বিতরণ করা হবে।

এছাড়া ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মেক্সিকো সিটির জোকালো চত্বরে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এও বিনামূল্যে কনডম বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, এমন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবস্থানও প্রচার করা হবে যেখানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পাওয়া যাবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যৌনমিলনের সময় কনডম ছিঁড়ে গেলে মানুষ এসব কেন্দ্রে গিয়ে পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (পিইপি) চিকিৎসা নিতে পারবে। সময়মতো এই চিকিৎসা নিলে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তবে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরের বাইরে এই স্বাস্থ্য প্রচারণা ব্যাপকভাবে মানুষের নজরে আসেনি।

প্রতি বছর ১ কোটিরও বেশি কনডম বিতরণ করে মেক্সিকো

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও মেক্সিকো সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মোট কত কনডম বিতরণ করবে তা ঘোষণা করেনি। তবে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত বিতরণকেন্দ্রের পাশাপাশি দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও কনডম বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এসব কেন্দ্র থেকে বছরে ১ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ কনডম বিতরণ করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছে, সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্য ইউনিটে বিনামূল্যে কনডম পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফার্মেসি, দোকান, সুপারস্টোর ও শপিংমলগুলোতেও এগুলো সহজলভ্য।



কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ?

মেক্সিকোর জাতীয় এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটি ও জালিস্কো দেশটির এইচআইভি সংক্রমণের সর্বোচ্চ পাঁচটি অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্টেট অব মেক্সিকো।

অন্যদিকে, মনতেরেতে প্রতি বছর নতুন এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে সাময়িক যৌনসম্পর্কের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের মতো আয়োজনগুলোতে এমন সম্পর্কের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে যৌনবাহিত রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

বিশ্বকাপ-থিমের কনডম দিচ্ছে কানাডা

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কানাডাও নিরাপদ যৌন আচরণে উৎসাহ দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। টরন্টো পাবলিক হেলথ তাদের ‘কনডমটু’ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বকাপ-থিমের বিশেষ কনডম এবং অন্যান্য নিরাপদ যৌনস্বাস্থ্য সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করছে।

এসব সামগ্রী টিপিএইচ পরিচালিত চারটি যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকে পাওয়া যাচ্ছে। কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ যৌন আচরণে উৎসাহ দেওয়া, সামাজিক সংকোচ কমানো ও মানুষকে যৌনস্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন করা।

টরন্টো পাবলিক হেলথ তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, প্রতিবার যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করলে যৌনবাহিত ও রক্তবাহিত সংক্রমণ, এইচআইভি ও অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি কমে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক দেশ হচ্ছে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।

বিশ্বকাপে কনডম বিতরণ নতুন নয়

বড় ক্রীড়া আসরে কনডম বিতরণ নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্রায় ১ কোটি কনডম বিতরণ করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে বিতরণ করা হয় ৩৫ লাখ কনডম, যদিও দেশটি লাতিন আমেরিকার উচ্চ এইচআইভি সংক্রমণপ্রবণ দেশগুলোর একটি।

২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে সরকারিভাবে ব্যাপক কনডম বিতরণ হয়নি। তবে দেশটির শিল্পখাতের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৫ দিনে প্রায় ১০ লাখ কনডম বিক্রি হয়েছিল।

সূত্র: এল সোল দে মেক্সিকো, রয়টার্স

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন