এবার ওয়ানডেতে বিরল তালিকায় নাম লেখালেন তাসকিন আহমেদ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩৫ পিএম | ০৯ জুন, ২০২৬
ম্যাচের প্রথম বল। তাসকিন আহমেদের হাতে নতুন বল। সামনে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ম্যাথু শর্ট। মিরপুরের ঘাসে ঢাকা উইকেটে প্রথম ডেলিভারিটাই সিমে পড়ে ভেতরে ঢুকল। শর্ট বুঝে ওঠার আগেই বল আঘাত করল স্টাম্পে।
অস্ট্রেলিয়ার ২৮৫ রান তাড়ার শুরুতেই ধাক্কা দিলেন তাসকিন। সেই সঙ্গে ফিরিয়ে আনলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের পুরোনো এক স্মৃতি।ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার কীর্তি বাংলাদেশের হয়ে খুব বেশি বোলারের নেই। সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ রাসেলের পর সেই বিরল তালিকায় এবার নাম তুললেন তাসকিন।
বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে এমন শুরু প্রথম দেখা গিয়েছিল ১৯৯৫ সালে। শারজায় পেপসি এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টসে জিতে বোলিং নিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক আকরাম খান। বল হাতে শুরু করেছিলেন পেসার সাইফুল ইসলাম। তার প্রথম বলেই আসাঙ্কা গুরুসিনহা ক্যাচ দেন আমিনুল ইসলামের হাতে। বাংলাদেশের জন্য সেটি ছিল স্বপ্নের মতো শুরু।
সেই ম্যাচে শুধু প্রথম বলের উইকেটেই থামেননি সাইফুল। পরে আরও তিনটি উইকেট নিয়ে ৩৬ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। সে সময় সেটিই ছিল বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি। তবে সাইফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও ম্যাচ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার ২৩৩ রানের জবাবে বাংলাদেশ থেমে যায় ১২৬ রানে।

১১ বছর পর একই ধরনের স্মৃতি ফিরিয়েছিলেন সৈয়দ রাসেল। ২০০৬ সালে নাইরোবির জিমখানা মাঠে কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথম বলেই কেনেডি ওটিয়েনোকে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। রাসেলের সেই আঘাতে ম্যাচের শুরুতেই চাপে পড়ে কেনিয়া।
সেই ম্যাচটি পরে আরও স্মরণীয় হয়ে থাকে মাশরাফি বিন মুর্তজার বোলিংয়ের জন্য। ২৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি, যা এখনো বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। কেনিয়াকে ১১৮ রানে আটকে দিয়ে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
এবার সেই তালিকায় যোগ হলেন তাসকিন। প্রতিপক্ষও বড়- অস্ট্রেলিয়া। ১৫ বছর পর বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ইনিংসের প্রথম বলে শর্টকে বোল্ড করে দিলেন তিনি। নতুন বল, সিম মুভমেন্ট ও গতি—তাসকিনের ডেলিভারিতে সবই ছিল।
মিরপুরে ম্যাচের আগে থেকেই পিচ নিয়ে আলোচনা ছিল। ঘাসের উপস্থিতি, শক্ত পৃষ্ঠ, পেস ও বাউন্সের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তাসকিন প্রথম বলেই সেই ধারণার জোরালো ইঙ্গিত দিলেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট পাওয়া শুধু পরিসংখ্যান নয়; ম্যাচের আবহ বদলে দেওয়ার মতো ঘটনা। ব্যাটিং দল তখনো ছন্দে ঢোকার সুযোগ পায় না, রান তাড়া শুরুই হয় না ঠিকভাবে। সেই মুহূর্তে প্রথম বলের আঘাত প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবেও চাপে ফেলে।
শর্টের স্টাম্প ভাঙার পর মিরপুরের গ্যালারিও যেন এক লাফে জেগে ওঠে। বাংলাদেশের ২৮৪ রানের পুঁজি তখন আরও একটু বড় মনে হতে শুরু করে। কারণ, শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে ধাক্কা দেওয়ার কাজটা করে দিয়েছেন তাসকিন।
সাইফুলের ১৯৯৫, রাসেলের ২০০৬—এরপর ২০২৬ সালে তাসকিন। তিনটি সময়, তিনটি প্রেক্ষাপট, তিনজন পেসার। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম বলের উইকেটের গল্পে এবার নতুন অধ্যায় যোগ করলেন তাসকিন আহমেদ।
এমআর/টিএ