ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬কী কারণে উরুগুয়ে ও সৌদি ম্যাচে গোলাপি জার্সি পরবেন রেফারিরা?
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১৮ এএম | ১৬ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপে রেফারিদের জার্সি সাধারণত নজর কাড়ে না। কালো, হলুদ, লাল, নীল বা সবুজ- দলের জার্সির সঙ্গে রঙের সংঘাত এড়াতে নির্দিষ্ট রঙেই দেখা যায় ম্যাচ কর্মকর্তাদের। কিন্তু উরুগুয়ে-সৌদি আরব ম্যাচে দেখা যাবে ভিন্ন ছবি। মায়ামির এই ম্যাচে রেফারি মাউরিজিও মারিয়ানি ও তাঁর সহকারীরা পরবেন বিশেষ গোলাপি জার্সি।
এটি কোনো কাকতালীয় সিদ্ধান্ত নয়। মায়ামির প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ উপলক্ষে ফিফা ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য একবারের বিশেষ “পিঙ্ক ফ্লেমিংগো” জার্সি তৈরি করেছে। ইতালিয়ান রেফারি মারিয়ানি ও তাঁর সহকারী দল এই জার্সি পরে মাঠে নামবেন উরুগুয়ে-সৌদি আরব ম্যাচে।
গোলাপি রংটি বেছে নেওয়ার পেছনে আছে মায়ামির নিজস্ব পরিচয়। শহরটির সঙ্গে ফ্লেমিংগোর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাউথ বিচের বিখ্যাত গোলাপি আভাযুক্ত আর্ট ডেকো ভবন, আর মায়ামির পরিচিত গোলাপি সূর্যাস্ত- সব মিলিয়েই এই জার্সির ভাবনা। আয়োজক শহরকে সম্মান জানানোর প্রতীক হিসেবেই রেফারিদের এই বিশেষ পোশাক।
বিশ্বকাপে ফিফার ম্যাচ কর্মকর্তাদের মূল বেস ক্যাম্প মায়ামিতেই। ভিডিও সহকারী রেফারিরা ডালাসে থাকলেও বাকি রেফারি ও সহকারী রেফারিরা মায়ামিতে অবস্থান করছেন। তাঁদের অনুশীলনের পোশাকও গোলাপি রঙের। সেই ধারাবাহিকতায় মায়ামির প্রথম ম্যাচে মাঠের পোশাকেও দেখা যাবে একই শহর-প্রেরণার ছাপ।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, মায়ামি যেহেতু রেফারিদের বেস ক্যাম্প, তাই শহরটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই রং বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “পিঙ্ক ফ্লেমিংগো” ভাবনাটি মায়ামির প্রতি এক ধরনের স্বীকৃতি।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ২০২৬ বিশ্বকাপে গোলাপি রং আলাদা করে আলোচনায়। অনেক ফুটবলারকেই দেখা যাচ্ছে গোলাপি বুট পরে খেলতে। ব্র্যান্ড আলাদা হলেও নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, নিউ ব্যালান্স কিংবা স্কেচার্স- বিভিন্ন সরবরাহকারীর খেলোয়াড়দের পায়ে গোলাপি বুট চোখে পড়ছে। টিভি সম্প্রচারে সবুজ ঘাসের ওপর গোলাপি রং স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, স্টেডিয়ামেও সহজে নজর কাড়ে।
রেফারিদের গোলাপি জার্সিও সেই দৃশ্যমানতার দিক থেকে কার্যকর। মাঠে খেলোয়াড়দের জার্সি, গোলরক্ষকের পোশাক ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের পোশাক আলাদা করে বোঝা জরুরি। গোলাপি রং সেই কাজও সহজ করে। তবে উরুগুয়ে–সৌদি ম্যাচে এর মূল গুরুত্ব দৃশ্যমানতার বাইরে-এটি মায়ামির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি ফিফার ছোট্ট শ্রদ্ধা।
পুরো টুর্নামেন্টে রেফারিরা সাধারণত কালো, সবুজ, নীল, লাল বা হলুদ জার্সি পরবেন। মায়ামির অন্য ম্যাচগুলোতেও প্রচলিত রঙের পোশাক ব্যবহৃত হবে। কিন্তু উরুগুয়ে-সৌদি আরব ম্যাচটি আলাদা। কারণ এই ম্যাচ দিয়েই মায়ামি বিশ্বকাপ আয়োজনের মঞ্চে প্রবেশ করছে। সেই উপলক্ষেই একবারের জন্য গোলাপি রেফারি জার্সির আয়োজন।
ফুটবল বিশ্বকাপে অনেক সময় ছোট দৃশ্যমান বিষয়ও বড় গল্প হয়ে যায়। কোনো দলের বিশেষ জার্সি, কোনো খেলোয়াড়ের বুট, কোনো শহরের রঙ-সব মিলিয়েই টুর্নামেন্টের নিজস্ব স্মৃতি তৈরি হয়। মায়ামির ক্ষেত্রে সেই স্মৃতির রং হতে যাচ্ছে গোলাপি।
উরুগুয়ে-সৌদি আরব ম্যাচে চোখ থাকবে মাঠের ফুটবলেও। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনায় চলে এসেছেন রেফারিরা। কারণ এবার তাঁদের বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে রংটিও গল্প বলবে—মায়ামির গল্প, ফ্লেমিংগোর গল্প, আর ২০২৬ বিশ্বকাপের ক্রমেই গোলাপি হয়ে ওঠা দৃশ্যমান পরিচয়ের গল্প।
এমআর/টিএ