খারাপ আচরণ করলেই অভিবাসীদের বহিষ্কার করবে সুইডেন, আইন পাস
ছবি: সংগৃহীত
০২:১০ পিএম | ১৬ জুন, ২০২৬
সুইডেনের পার্লামেন্ট নতুন একটি অভিবাসন আইন পাস করেছে। সোমবার অনুমোদিত এই আইনের আওতায় অসদাচরণের অভিযোগে অভিবাসীদের বসবাসের অনুমতি বাতিল করতে পারবে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
যারা দেশের আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলবে না, তাদের সুইডেনে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না- বলছে সরকার। নতুন আইনের মাধ্যমে অভিবাসন নীতি আরো কঠোর করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল দেশটি। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো অভিবাসীর বিরুদ্ধে বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করা, কর না দেওয়া, নিবন্ধন ছাড়া কাজ করা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বা উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বসবাসের অনুমতি বাতিল করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আইন শুধু নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নয়, আগেই বসবাসের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ অতীতের আচরণও পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
আগামী সেপ্টেম্বরে সুইডেনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন ডানপন্থি সরকার এবং তাদের সমর্থক জাতীয়তাবাদী দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। নতুন আইনকে সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আইনটি ঘিরে দেশটিতে বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক অধিকারকর্মীরা এর সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, আইনে কোন আচরণকে 'খারাপ আচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই আইন ইচ্ছামতো ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্টকহোমভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিভিল রাইটস ডিফেন্ডার্স এক বিবৃতিতে বলেছে, এই আইন অভিবাসীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
সংগঠনটির মতে, একজন ব্যক্তি আগে থেকে বুঝতে পারবেন না যে তার কোন কাজ, বক্তব্য বা আচরণ ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে অনেকেই নিজেদের মত প্রকাশ বা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন। সিভিল রাইটস ডিফেন্ডার্স আরো বলেছে, এই আইন আইনের শাসন এবং সবার জন্য সমান আইনি সুরক্ষার নীতিকে দুর্বল করতে পারে।
২০২২ সালের নির্বাচনে অভিবাসন কমানো এবং অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে বর্তমান সরকার। এরপর থেকে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকারের অবস্থান হলো, যারা সুইডিশ সমাজের নিয়মকানুন মানবে না বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে, তাদের দেশে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
নতুন আইনের আওতায় কারও বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হবে কি না, তা পর্যালোচনা করবে সুইডেনের মাইগ্রেশন এজেন্সি। এই সংস্থাটিই প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাইগ্রেশন আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
চলতি বছরের মার্চে বিলটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করার সময় অভিবাসনমন্ত্রী জোহান ফোরসেল বলেছিলেন, 'যারা সঠিক কাজ করার চেষ্টা করে না, তাদের সুইডেনে থাকার আশা করা উচিত নয়।'
আরআই/টিকে