ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির খসড়া ফাঁস করলো সিএনএন, কী আছে
ছবি: সংগৃহীত
০৯:০৫ পিএম | ১৭ জুন, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তির খসড়া ফাঁস করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন। এরইমধ্যে চুক্তির সম্ভাব্য শর্তগুলো নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া চুক্তিতে রয়েছে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তিতে সই করতে পারে দুই দেশ। এক নজরে দেখে নেয়া যাক, খসড়া চুক্তিতে কী কী রয়েছে।
১. ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে চলমান যুদ্ধের বিষয়ে এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ঘোষণা করা হচ্ছে, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। দুই পক্ষই একমত হয়েছে যে, তারা আর একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে না। এমনকি কোনো ধরনের শক্তি প্রয়োগ বা হুমকিও দেওয়া হবে না। পরে যে চূড়ান্ত চুক্তি হবে, সেখানে এই বিষয়সহ অন্যান্য সব শর্ত বিস্তারিতভাবে যুক্ত করা হবে।
২. ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
৩. উভয় দেশ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালাবে। পারস্পরিক সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
৪. এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে থাকা নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরানের চলাচলে সব ধরনের বাধা বন্ধ করবে। সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক চলাচল আগের অবস্থায় ফিরবে। চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করবে।
৫. ইরান দ্রুত ব্যবস্থা নেবে যাতে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবার শুরু হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা যেন আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি বাধা দূর করা এবং সমুদ্রের মাইন অপসারণ করা হবে।
৬. যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, যার জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনার কাঠামো ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।
৭. চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ে ইরানের ওপর থাকা সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্যে জাতিসংঘ, আইএইএ-এর সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত।
৮. ইরান আবারও নিশ্চিত করছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পারমাণবিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
৯. চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকবে। ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে না।
১০. সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা (যেমন ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন) রফতানির জন্য প্রয়োজনীয় ছাড় দেবে, নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি না উঠা পর্যন্ত।
১১. আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে ইরানের জব্দ বা স্থগিত তহবিল ও সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করা হবে। এসব অর্থ ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত খাতে ব্যবহার করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এ জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দেবে।
১২. চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও তা মেনে চলা নিশ্চিত করতে একটি যৌথ তদারকি ব্যবস্থা গঠন করা হবে।
১৩. সমঝোতা চুক্তির ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন শুরু ও চলমান থাকার নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে, উভয় দেশ বাকি বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করবে।
১৪. চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ডিজিটালি এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।
টিজে/টিকে