© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন বন্ধের আহ্বান হিউমান রাইটস ওয়াচের

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন বন্ধের আহ্বান হিউমান রাইটস ওয়াচের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২০ পিএম | ১৭ জুন, ২০২৬
কোনো প্রকার ‘আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পুশইন’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এতে বলা হয়, বিএসএফের এই পদক্ষেপ এবং ঠেলে দেওয়া মানুষদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজিবির প্রতিরোধের কারণে দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী শূন্য রেখায় কয়েক ডজন পরিবার আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বিজিবির বরাত দিয়ে সংস্থাটি বলছে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে তারা শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে ‘পুশইন’ করার অন্তত ২১টি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে।

আরও বলা হয়, বলা হয়, তারা এমন নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা বিএসএফকে রাতের অন্ধকারে একদল মানুষকে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখেছেন। বেশ কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত বিএসএফ ওই মানুষদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চগড়ে গত ৫ জুন বিএসএফ শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রহণ না করায় ওই ১০ জন টানা ৭৫ ঘণ্টা শূন্য রেখায় আটকে থাকেন।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিষ্ঠুরভাবে পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম মানবাধিকারের ধার ধারা হচ্ছে না।

তিনি ভারত সরকারের প্রতি এই বেআইনি বহিষ্কার বন্ধ এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের অবসানের দাবি জানান তিনি।

এইচআরডব্লিউ চলমান এই বিতাড়ন প্রক্রিয়ার জন্য ভারতের সমালোচিত ‘ভোটার তালিকা সংশোধন’ এবং নাগরিকত্ব বাতিলের রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেছে।

সংস্থাটি বলছে, পশ্চিমবঙ্গে গত মার্চ মাসের নির্বাচনের ঠিক আগে, ভারতের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এবং বিতর্কিত উপায়ে ভোটার তালিকা সংশোধন করে। এর ফলে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। আর এটিই মূলত আটক এবং নির্বাসনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।

ভারতের একজন সমাজকর্মী এইচআরডব্লিউকে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকার হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে আনুমানিক ৪০০ জন বন্দি আছে, যাদের অনেকেরই নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর তাদের আটক করা হয়েছে। এই তালিকা থেকে বাদ পড়াটাই এখন গ্রেফতার, আটক এবং বহিষ্কারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি গোটা রাজ্যেই তীব্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, জাতীয়তা যাই হোক না কেন, সশস্ত্র সীমান্ত রক্ষীদের দুটি লাইনের মাঝখানে কাউকে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। ভারতের উচিত এই নির্মম বহিষ্কার প্রক্রিয়া বন্ধ করা। তাছাড়া উভয় দেশের সরকারেরই নিশ্চিত করা উচিত যে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা যেন কোনোভাবেই মানুষের মৌলিক মানবিক মর্যাদার বিনিময়ে না হয়।

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন