বাবা অসুস্থ, তাই হ্যাটট্রিক করেও কেঁদেছিলেন মেসি?
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১৬ এএম | ১৮ জুন, ২০২৬
আলজেরিয়ার বিপক্ষে রাতটা লিওনেল মেসির জন্য ছিল ইতিহাসের। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম ম্যাচ, বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক, মিরোস্লাভ ক্লোসের পুরুষ বিশ্বকাপ গোলরেকর্ডে ভাগ—সব মিলিয়ে কানসাসের রাতটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। কিন্তু প্রথম গোলের পর মেসির আবেগী প্রতিক্রিয়া এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে মেসি নিজেই জানিয়েছিলেন, কয়েকটা কঠিন দিন পার করেছেন তিনি। তবে সেটি ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলেও পরিষ্কার করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তিনি কারণ জানাননি, বিস্তারিতেও যাননি। শুধু বলেছিলেন, দল, সতীর্থ ও পুরো আর্জেন্টিনা প্রতিনিধিদল তাঁকে সেই সময় পার করতে অনেক শক্তি দিয়েছে।
এরপরই আর্জেন্টাইন সাংবাদিক এদুয়ার্দো ফেইনমানের বক্তব্য ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়। তাঁর দাবি, মেসির আবেগের সঙ্গে বাবা জর্জ মেসির স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সম্পর্ক আছে। ফেইনমান রেডিও মিত্রেতে বলেন, জর্জ মেসি ভালো নেই এবং কিছুদিন ধরেই স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যে আছেন।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—মেসি পরিবার এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। জর্জ মেসির নির্দিষ্ট কোনো রোগ, চিকিৎসা বা শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত পরিবার থেকে প্রকাশ করা হয়নি। তাই বিষয়টি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে আসা দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।

জর্জ মেসি শুধু লিওনেল মেসির বাবা নন, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশও। মেসির বাণিজ্যিক স্বার্থ, চুক্তি ও ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত অনেক সিদ্ধান্তেই তাঁর ভূমিকা ছিল। বাবা-ছেলের সম্পর্ক যে ঘনিষ্ঠ, সেটি মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারজুড়েই স্পষ্ট।
আর্জেন্টিনার হয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে মেসি তিন গোল করেন। ১৭ মিনিটে প্রথম গোলের পর তাঁকে আবেগপ্রবণ দেখা যায়। এরপর ৬০ ও ৭৬ মিনিটে আরও দুই গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এই তিন গোলেই পুরুষ বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬, ক্লোসের সমান।
ম্যাচের পর মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্ক নেই, এমন কিছু কঠিন ও জটিল দিন পার করেছি। তবে এতটুকুই। পুরো দল, সতীর্থ, সবাইকে ধন্যবাদ। তারা সব সময়ের মতো আমার পাশে ছিল। এই সময়টা পার করতে তারা আমাকে অনেক শক্তি দিয়েছে।’
মেসির এমন বক্তব্যের পর তাঁর আবেগের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে তিনি নিজে যেহেতু ব্যক্তিগত কারণ প্রকাশ করেননি, তাই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকাই প্রয়োজন। বাবার স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত দাবি সামনে এলেও তা এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
তবু একটি বিষয় পরিষ্কার—রেকর্ডের রাতেও মেসি ব্যক্তিগতভাবে সহজ সময়ের মধ্যে ছিলেন না। সেই অবস্থাতেই মাঠে নেমে তিনি হ্যাটট্রিক করেছেন, আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন এবং আবারও দেখিয়েছেন, বড় চাপের মধ্যেও কীভাবে নিজের সেরা ফুটবল তুলে ধরতে হয়।
একেএস/টিএ