বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব—ছাত্রীকে খুবি শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৫ পিএম | ১৮ জুন, ২০২৬
স্ক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক আপত্তিকর বার্তা ও স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত বার্তাগুলোতে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রীদের উদ্দেশে “বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব”, “বন্ধুর সঙ্গে হাগ করলে ডিপ্রেশন থাকে না”, “আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না” এবং “তোমার মতো মেয়ে বিয়ের আগে পাওয়া দরকার ছিল”—এ ধরনের মন্তব্য পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী জানান, তিনি মেসেঞ্জারের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপে কলের মাধ্যমেও এমন অশালীন কথা পেয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি নিজেই প্রথমে শিক্ষককে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলেন, যা গ্রহণ করার পর থেকেই এসব বার্তা আসতে শুরু করে। ক্যাম্পাস বন্ধের ঠিক আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর তিনি ভয় পেয়ে বিষয়টি সিনিয়রদের জানান।
তিনি বলেন, “একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পরও আমি সামনে এসেছি, কারণ আমি চাই অন্য ভুক্তভোগীরাও সাহস করে কথা বলুক এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক।”
অভিযোগ সামনে আসার পর আরও কয়েকজন ছাত্রী একই ধরনের হেনস্তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একজন সাবেক ছাত্রী দাবি করেন, প্রায় এক যুগ আগে থেকেই ক্লাসে এবং ফোনে অশালীন প্রশ্ন ও মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের বিব্রত করতেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে “ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক” বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ ওঠার পর তিনি নিজের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছেন এবং থানায় জিডিও করা হয়েছে। তার দাবি, একটি মহল ঈর্ষা ও শত্রুতার কারণে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান জানান, ডিনদের সঙ্গে বৈঠকের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। তারা দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসকে নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তুলতে যৌন হয়রানির ঘটনায় কঠোর ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
টিজে/টিকে