সংসদে মুতা বিয়ে ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদলীয় সদস্যদের উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত
১২:৫২ এএম | ১৯ জুন, ২০২৬
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ঋণ খেলাপি, মুতা বিয়ে, পরকীয়া এবং মামুনুল হককে নিয়ে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য দিয়ে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশের ১০ম দিনে মুলতবি অধিবেশন বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকলেও তিনি আজ কোন বক্তব্য রাখেননি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ২০২১ সালে মামুনুল হককে ঘিরে আলোচিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। পরে সরকারি ও বিরোধী দলের অনুরোধে বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করে স্পিকার।
প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় বিএনপির এমপি খোন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কী ছিল?’
এমপি বলেন, ‘ছাত্রশিবির নেতা জিসান...এই ইতিহাসও আপনারা....।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে কিছু একটা বলতে দেখা যায়। তখন বক্তব্যের ইস্যু পরিবর্তন করেন খোন্দকার আবু আশফাক।
আবু আশফাক বলেন, ইসলামী ব্যাংক মানে একটা দেশ না, ইসলামী ব্যাংক একটি ব্যাংক। সেটার জন্য (সংসদে আলোচনা) এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এই এমপি বলেন, ‘সিগারেট-মদের বিষয়ে ওই পাশ (বিরোধী দল) থেকে বলা হয়েছে, এগুলো ট্রেজারি বেঞ্চ খায় বলে রাখা হয়েছে। আমি জানি না, আল্লাহ জানেন, কার কী অভ্যাস আছে।’
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় বক্তব্যে না আনাই ভালো। একজন রাজনৈতিক নেতার পরকীয়া সম্পর্কে আপনি মন্তব্য করেছেন। সাধারণত যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সংসদে সমীচীন নয়। মুতা বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে এসবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? মুতা বিয়ে হলো সম্ভবত কেউ বিদেশে গেলে, আগের কালে নিয়ম ছিল, সাময়িক এক মাসের জন্য সো কল্ড বিয়ে করতে পারতেন বা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে পারতেন। এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না করা ভালো।
পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, মুতা বিয়ের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞ না, তবে কনসেপ্টের বিষয়ে আমি জানি। মামুনুল হক সাহেবের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, এটা একেবারেই ভুল তথ্য। উনি মুতা বিয়ে করেননি। গাজীপুরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাকে হেনস্তা করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা এস্টাবলিশড। বিয়ে করা জায়েজ। এরপর তিনি মামুনুল হককে নিয়ে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করেন।
সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, যা অসংসদীয় এবং সমীচীন নয়, তা কার্যবিবরণী হতে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।
তখন স্পিকার বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া এখনো কিন্তু তিনি (মামুনুল হক) তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, চাই না।’
পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতের এমপি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি এ প্রসঙ্গটাকে থামানোর জন্য ইশারায় মাননীয় সংসদ সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন। একসময় মুতা বিয়ে করা যেত। এটা এখন হারাম হয়ে গেছে, নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। এখন করা যাবে না।’
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। সেখানে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন খবর পেয়ে হেফাজতের কর্মী-সমর্থক ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন।
এসকে/টিএ