যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্থায়ী শান্তিচুক্তি : সুইজারল্যান্ডের পথে উইটকফ-আরাগচি
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৩ পিএম | ২০ জুন, ২০২৬
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয় হয়ে উঠেছে দুই দেশের মধ্যকার প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তিচুক্তি।
সেই চুক্তির খসড়া ও শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশ থেকে তারা সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টর সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউস উইটকফের সুইজারল্যান্ডে রওনা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে চায়নি। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোতেও এ আরাগাচির সফর নিয়ে বিশদভাবে কিছু বলা হয়নি।
উল্লেখ্য, গতকাল ১৯ ডিসেম্বর সুইজারল্যান্ডে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করতে সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধি দলের। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের।
কিন্তু ১৭ তারিখ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্যারিসে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তেহরান তার নিজ দপ্তরে চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেলার পর ১৮ এপ্রিল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেহেতু দুই দেশের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে, তাই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সুইজারল্যান্ডে আর প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে না ইরান।
তেহরানের এই ঘোষণার পর জে ডি ভ্যান্স ও তার প্রতিনিধি দলের সুইজারল্যান্ড যাত্রা বাতিল করে মার্কিন প্রশাসনও।
‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি’ বা ইসলমাবাদ এমওইউ মূলত ইরান ও যুক্তরষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তিচুক্তির প্রাথমিক পদক্ষেপ। ১৪টি শর্ত সম্বলিত ৮০০ শব্দের এই এমওইউতে বলা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে।
ইরান যদি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা কখনও পরমাণু বোমা বানাবে না, তাহলে ইরানের ফ্রিজড অবস্থায় থাকা অর্থ-সম্পদ অবমুক্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র, দেশটির তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও প্রদান করবে যুক্তরাষ্ট্র।
যদি চুক্তিস্বাক্ষর না হয়, তাহলে ৬০ দিন পর ফের ইরানে মার্কিন বাহিনী বোমাবর্ষণ করবে বলেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সূত্র : রয়টার্স
টিকে/