হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের ৪০ কোটি ডলারের ‘বলরুম প্রকল্প’ আটকে দিলেন আদালত
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৯ এএম | ০৮ আগস্ট, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসের পূর্বপাশে ৪০ কোটি ডলারের ‘হোয়াইট হাউস বলরুম’ নামে যে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন, তা আটকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল আপিল আদালত।
গত কাল শুক্রবার এ বিষয়ক এক পিটিশনের রায় ঘোষণা করেছেন ইউ.এস. কোর্ট অব অ্যাপিলস ফর ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট। রায়ে আদালত বলেছেন, “প্রত্যেক প্রেসিডেন্টেরই স্মরণ রাখা উচিত যে তারা হোয়াইট হাউসে সাময়িক সময়ের জন্য অতিথি, এ ভবনের মালিক নন। হোয়াইট হাউসে কোনো বিশালাকৃতির বলরুম নির্মাণ করা হবে কি হবে না— সে সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস (যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট)। এটা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের স্বেচ্ছাধীন কোনো বিষয় নয়।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে গত বছর হোয়াইট হাউসের পূর্বাংশ (ইস্ট উইং) ভেঙে ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের বিশাল এক বলরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্প শুরুর আগে কংগ্রেসের অনুমতি নেননি ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই বলরুম প্রকল্পের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলাম্বিয়া জেলা সার্কিটের আপিল আদালতে পিটিশন দেয় ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিভেনশন নামের একটি সংস্থা। সেই পিটিশনের রায় শুক্রবার ঘোষণা করলেন আদালত। আপিল আদালতের ৩ জন বিচারপতির ২ জন রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
আপিল আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সুযোগ আছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, তবে সেই আবেদনের জন্য তার হাতে সময় আছে মাত্র ১৪ দিন। আগামী ১৪ দিনের মধ্যে যদি ট্রাম্পের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে ব্যর্থ হন— তাহলে এ ব্যাপারে আপিল আদালতের রায়কেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে।
পিটিশনের বাদিপক্ষ ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিভেনশনের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট লেগস আপিল আদালতের রায়ে স্বাভাবিক কারণেই খুশি হয়েছেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের লেগস বলেছেন, “হোয়াইট হাউসসহ যুক্তরাষ্ট্রের যত ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে, সেসবের ব্যাপারে মতামত দেওয়ার পূর্ণ অধিকার এ দেশের নাগরিকদের রয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে আদালত সেই অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেন। আজকের দিনটি যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি মহান দিন।”
এমআর/টিএ