© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় শুরু হয় ৪০’র পর: রাইমা

শেয়ার করুন:
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় শুরু হয় ৪০’র পর: রাইমা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪০ পিএম | ২০ জুন, ২০২৬
বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ রাইমা সেন। তিনি মনের করেন, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় শুরু হয় ৪০ বছর বয়সের পর। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

তার ভাষায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিজের সম্পর্কে আরও সচেতন হয়, সিদ্ধান্ত নিতে শেখে এবং অতীতের ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলোকে কাজে লাগাতে পারে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাইমা বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি নিজেকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বাধীন এবং আত্মবিশ্বাসী মনে করেন। তরুণ বয়সে অনেক কিছু শেখার, বুঝে ওঠার এবং নিজেকে খুঁজে পাওয়ার যে সংগ্রাম থাকে, তা ধীরে ধীরে কমে আসে। ফলে চল্লিশের পর জীবন অনেক বেশি ছন্দময় ও সহজ বলে মনে হয় তার কাছে।

অভিনেত্রীর মতে, ২০ কিংবা ৩০’র দশকে মানুষ নানা ধরনের অনিশ্চয়তা, প্রত্যাশা এবং চাপের মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতাগুলোই শক্তিতে পরিণত হয়। আর তাই জীবনের এই অধ্যায়কে তিনি সবচেয়ে উপভোগ্য সময় হিসেবে দেখেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি নিজের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেন এবং অবিবাহিত জীবনকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন। সম্প্রতি নির্মাতা জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করেছেন নতুন চলচ্চিত্র ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’ এ, যা ইতোমধ্যে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।



ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও কাজের ক্ষেত্রে খুবই বেছে চলেন রাইমা। তিনি জানান, শুধু কাজের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কোনো চরিত্র গ্রহণ করতে চান না। বরং এমন চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী, যা তার অভিনয়জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দর্শকদের সামনে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করবে। একই ধরনের গল্প বা চরিত্র বারবার করতে তার আগ্রহ নেই। কমেডি, গ্যাংস্টার, পুলিশ কিংবা একেবারে ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র সব ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে তিনি প্রস্তুত।

রাইমার অভিনয় জীবনে পারিবারিক পরিচয়ও ছিল বড় আলোচনার বিষয়। তিনি কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের নাতনি এবং অভিনেত্রী মুনমুন সেনের মেয়ে। ফলে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাকে নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। এ প্রসঙ্গে রাইমা বলেন, প্রথমদিকে সেই প্রত্যাশা তার ওপর চাপ তৈরি করলেও সময়ের সঙ্গে তিনি বিষয়টিকে আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতে শিখেছেন। কারণ এমন একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পী পরিবারের অংশ হওয়া গর্বের বিষয়।

তবে অভিনয়ই তার জীবনের একমাত্র কেন্দ্র নয়। কাজের বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, ভ্রমণে যাওয়া, পার্টিতে অংশ নেওয়া কিংবা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়ার মতো সাধারণ আনন্দও সমানভাবে উপভোগ করেন তিনি। তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য জীবনের সাধারণ অভিজ্ঞতাগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখান থেকেই নতুন চরিত্র ও অনুভূতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে। অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতার সমন্বয়ে জীবনের নতুন সংজ্ঞা খুঁজে পেয়েছেন রাইমা সেন। আর সেই কারণেই তার দৃঢ় বিশ্বাস জীবনের আসল সৌন্দর্য এবং পরিপক্বতা ধরা দেয় চল্লিশের পরেই।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন