© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

২১ জুন সুইজারল্যান্ডে শুরু হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা

শেয়ার করুন:
২১ জুন সুইজারল্যান্ডে শুরু হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:০০ পিএম | ২০ জুন, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ শনিবার (২০ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় ২১ জুন সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও অংশ নেবেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে সমঝোতার বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ, আস্থা তৈরির পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনার ভিত্তি প্রস্তুত করা।
 
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের সম্ভাব্য কাঠামো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
 
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি শিগগিরই সুইজারল্যান্ড সফর করতে পারেন এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে পরিস্থিতি ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন।
 
একই সময়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, তেহরান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রস্তুত, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার শর্ত মেনে চলবে।
 
বিশ্লেষকদের মতে, বুর্গেনস্টকের এই বৈঠক সফল হলে তা সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের পথও আরও সুগম হতে পারে।
 
গত বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ ও উত্তেজনা কমানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
 
সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা থাকলেও তা মানছে অস্বীকৃতি জানায় ইসরাইল। দেশটির যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
 
গত শুক্রবার (১৯ জুন) ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে নতুন করে আরও অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ)। এর ফলে গত দুইদিনের নিহতের সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে।  
 
লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় গত শুক্রবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক পিছিয়ে দেয় ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। 
 
আজ শনিবার (২০ জুন) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ বলেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, যদি অপর পক্ষও একই ধরনের আন্তরিকতা দেখায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা সফল করতে ইসরাইলকে চুক্তির শর্ত মানতে হবে।
 
ইরানের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুসরণমূলক আলোচনা করতে এবং দেশটি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কি না তা নিশ্চিত করতে শিগগিরই ইরানের একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
 
আজ শনিবার (২০ জুন) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই সফরটি মূলত অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি অনুসরণ করার জন্য।’ তার ভাষায়, ‘প্রতিশ্রুতি পালনে অপর পক্ষের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থাকায়, বাস্তবায়ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের দাবিতে আমাদের স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত দৃঢ় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।’
 
আলোচনা স্থগিতের কারণ ব্যাখ্যা করে বাঘাই বলেন, আগে নির্ধারিত থাকলেও গতকাল প্রতিনিধিদলটি সুইজারল্যান্ড যায়নি, কারণ অন্তর্বর্তী চুক্তিটি ‘দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা ডিজিটালভাবে স্বাক্ষর করেছেন, তাই ওই বৈঠক করার আর তেমন জরুরি প্রয়োজন ছিল না।’
 
তিনি বলেন, আজকের সফর প্রয়োজনীয়, কারণ ‘চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা’ কেবল তখনই শুরু হতে পারবে যখন চুক্তির বেশ কয়েকটি ধারা বাস্তবায়িত হবে — এবং ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা এই মুহূর্তে সেই পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি না।’ তার কথায়, ‘তাই এই সফর ও আলোচনায় আমরা অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য চাপ দেব এবং তারা ঠিক কীভাবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে চায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নিতে চাইব।’

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন