মালদ্বীপের মুদ্রায় রেমিট্যান্স ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে হাইকমিশনার ও বিএমএল প্রধানের বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫২ পিএম | ২৪ জুন, ২০২৬
মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় সহজ, নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ী রেমিট্যান্স ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে, ব্যাংক অব মালদ্বীপের (বিএমএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শরীফের সঙ্গে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ব্যাংক অব মালদ্বীপের প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান হাইকমিশনারের পারসোনাল অফিসার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
বৈঠকে মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত ও কম খরচে দেশে পাঠানোর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা ‘রুফিয়া’ থেকে সরাসরি বাংলাদেশি মুদ্রায় (টাকা) রেমিট্যান্স রূপান্তর ও স্থানান্তরের একটি সহজ উইন্ডো চালুর বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মালদ্বীপের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে অবদান রাখছেন। তাদের এই কষ্টার্জিত অর্থ যাতে হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের ঝুঁকিতে না পড়ে, সেজন্য একটি স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক তৈরি করা জরুরি। সরাসরি রেমিট্যান্স সুবিধা চালু হলে প্রবাসীদের অর্থ সাশ্রয় হবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও বৈধ রিজার্ভের প্রবাহ বাড়বে।’
এছাড়াও তিনি ‘বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরও উন্নত আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একইসাথে মালদ্বীপ সরকারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।’
বৈঠকে ব্যাংক অব মালদ্বীপের সিইও মোহাম্মদ শরীফ বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সেবা সহজতর করতে এবং বৈধ আর্থিক লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক অব মালদ্বীপ সব সময় ইতিবাচক। এই প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে প্রযুক্তিগত ও নীতিগত বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক ঋণসুবিধা চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়, যা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
টিকে/