কমেছে তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫১ পিএম | ২৫ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা কমে আসা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ১.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২.৫০ ডলারের নিচে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রায় ৬৯.৪০ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন এবং তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২০টিরও বেশি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছে।
সংঘাতের শুরুতে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা এসব জাহাজের বেশিরভাগই অ-ইরানি ট্যাংকার। বহনকৃত তেলের বড় অংশ আগামী আগস্টের শুরুতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করা হয়।
তবে তেলের দাম কমলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্প নেভি বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানিয়েছে, তেহরানের নির্ধারিত রুট অনুসরণ করেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলেও সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি