বিরল খনিজের খোঁজে ইরানে যাচ্ছে চীনের বিজ্ঞানীরা
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৫ পিএম | ১৪ আগস্ট, ২০২৬
চীন ইরানের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়াতে যাচ্ছে। এবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘বিরল মাটি’ বা রেয়ার আর্থ ধাতু নিয়ে দুই দেশ সহযোগিতা করতে যাচ্ছে।
চলতি বছরের যৌথ কর্মসূচিতে বিরল খনিজের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তিকে সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে চীনের ন্যাশনাল ন্যাচারাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফসি) ও ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন। এতে সহযোগিতার জন্য পাঁচটি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বিরল মাটি উপাদানের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ’।
এনএসএফসি জানিয়েছে, প্রতিটি কর্মশালার জন্য চীনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৪ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার) দেওয়া হবে।
এই অর্থ সভা, থাকার ব্যবস্থা এবং চীনের ভেতরে যাতায়াতসহ বিভিন্ন খরচে ব্যবহার করা হবে।
অন্যদিকে, ইরান ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন ইরানি অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের খরচে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ইরান সফরে যাওয়া চীনা গবেষকদের থাকার ব্যবস্থার খরচও বহন করবে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ও উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এই সহযোগিতাকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিরল মাটি বলতে ১৭টি ধাতুর একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে বোঝায়। এসব ধাতুর চৌম্বকীয় ও বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য আধুনিক প্রযুক্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, রাডারসহ বিভিন্ন সামরিক ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় এসব ধাতু ব্যবহার করা হয়।
চীনের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থের মজুদ রয়েছে। দেশটি বিশ্বব্যাপী এসব খনিজের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে আধিপত্য ধরে রেখেছে।
একই সঙ্গে বিদেশে বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রযুক্তি হস্তান্তরও ধীরে ধীরে সীমিত করছে।
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার পর বেইজিং বিরল মৃত্তিকা রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং বিরল মৃত্তিকার ক্ষেত্রে চীনের ওপর ওয়াশিংটনের নির্ভরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ইরানে বিরল মৃত্তিকার মজুদের পরিমাণ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনও খুব কম তথ্য রয়েছে। তবে দেশটির বিরল মৃত্তিকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের ভূতাত্ত্বিক গঠনে লৌহ আকরিক ও ফসফেটের স্তর রয়েছে, যা বিরল মৃত্তিকার মজুদ থাকার জন্য অনুকূল বলে মনে করা হয়।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক হেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ফেব্রুয়ারির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের মাধ্যমে মধ্য ইরানের প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিরল মৃত্তিকার উপস্থিতির সম্ভাব্য চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ইরানের বিরল মৃত্তিকা উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। শিল্প পর্যায়ে উৎপাদনে পৌঁছাতে দেশটির আরো অনেক সময় লাগবে।
চীন ও ইরানের দুটি জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৭ সালে। ওই বছর বেইজিংয়ে দুই সংস্থা একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এনএসএফসি তাদের ওয়েবসাইটে বলেছিল, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও বাড়বে এবং দুই দেশের জনগণ উপকৃত হবে।’
এরপর থেকে দুই সংস্থা গণিত, জীববিজ্ঞান, চিকিৎসা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পদার্থবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন করে আসছে।
২০২৪ সালে দুই দেশ যৌথ কর্মশালা কর্মসূচি চালু করে। শুরুতে জলবায়ু পরিবর্তন, এআই, উন্নত উপকরণ ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন বিষয় এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রতিটি কর্মশালার জন্য দেড় লাখ ইউয়ান করে অনুদান দেওয়া হতো।
এবারের কর্মসূচিতে বিরল মৃত্তিকা অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ, দূষণ পর্যবেক্ষণ, ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য ন্যানো উপকরণ নিয়ে গবেষণাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসএন