আগামী ১৫ বছরের মধ্যে গলতে পারে আর্কটিক মহাসাগরের সব বরফ
২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রীষ্মকালে আর্কটিক সমুদ্রের সকল বরফ গলে যাবে। ১৯৭৯ সাল থেকে বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এ অঞ্চলের বরফের পরিমাণ নিয়ে সমীক্ষা করে চলেছেন, যার মধ্যে গত জুলাই মাসে সব থেকে কম পরিমাণ বরফ রেকর্ড করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় পূর্বের একটি দাবিকে সমর্থন করে এসব তথ্য বলা হয়েছে।
প্রতি বছর দীর্ঘ শীতের সময় সমুদ্রের উপরিভাগ জমে যাওয়ার সাথে সাথে আর্কটিক মহাসাগরের বরফ আচ্ছাদিত অঞ্চল প্রসারিত হয়। মার্চ মাসে এর সর্বোচ্চ বিস্তার ঘটে। পুরো আর্কটিক মহাসাগরের প্রায় ৬০ লক্ষ বর্গমাইল এলাকা বরফে ঢেকে যায়। আবার গ্রীষ্মের সময় এই বরফ গলতে থাকে, সেপ্টেম্বরের সর্বনিম্ন পয়েন্টে পৌঁছে।
১৯৮০ এর দশকে জুলাই মাসে প্রায় ৩৮.৮ মিলিয়ন বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বরফ ছিল, যা আয়তনের দিকে থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার সমপরিমাণ অঞ্চল।
১৯৭৯ সাল থেকে আর্কটিক অঞ্চলের সমুদ্র বরফ বছরে গড়ে ২৭,০০০ বর্গমাইল কমেছে। এ বছরের জুলাই মাসে সমুদ্র বরফটি মাত্র ২.৮ মিলিয়ন বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
অর্থাৎ সমুদ্র বরফের আয়তন প্রতিবছর ‘উত্তর ডাকোটা’র সমপরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। তবে প্রতি বছর এই গলে যাওয়া অঞ্চল আর পুনরুদ্ধার হচ্ছে না।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক মারিয়া ভিট্টোরিয়া গুয়ারিনো বলেন, “আমরা জানি যে এটি খুব দ্রুত ঘটছে এবং এখন আমাদের এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আর্কটিকের উচ্চ তাপমাত্রা কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদেরকে বিস্মিত করছে।”
আর্কটিক মহাসাগরীয় বরফের একটি মডেল তৈরি করে ‘সিমুলেশন’ এর মাধ্যমে এর উপর ভবিষ্যতের প্রভাব নির্ণয় করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০৩৫ সাল নাগাদ এই গ্রীষ্মে এই অঞ্চল সমুদ্র বরফ শূন্য হয়ে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফী ও সাইন্স ডেইলি।
টাইমস/এনজে