যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, গুমে জড়িত কাউকে ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩৪ পিএম | ২৬ জুন, ২০২৬
সামনের দিনগুলোতে গুমের মতো ঘটনার সঙ্গে আর জড়াতে চান না বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই কথা জানান তিনি।
গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বয়ে চলা স্বজন হারানোর বেদনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গুম হওয়া ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমরা আর সম্পৃক্ত হতে চাই না। এটি মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ (ক্রাইম অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি)। এর প্রকাশ্যে বিচার এবং শাস্তি হওয়া উচিত।
দৃঢ় আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আশা করি, দ্রুত বিচার এগিয়ে যাবে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে গুম হওয়া পরিবারের কেন হবে না? আমরা এ বাজেটেই তা রাখার চেষ্টা করব। আমরা আর গুম হয়ে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাই না। যারা এ অপরাধে জড়িত, প্রকাশ্যে তাদের বিচার-শাস্তি হতে হবে।’
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, একে একে প্রত্যেকে ধরা পড়বে। বিচার হবে।’
সভায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘এখন কান্নার সময় নয়, এখন বিচার-অধিকার-রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায় করার সময়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এবং বাজেট বাড়ানোর দাবি আসছে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জিয়াউল আহসানের সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার জন্য এক মাস কাজ করতে হয়েছে। ৪২ পরিবারের গুমের তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি এক মাসের মধ্যে শেষ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে এক বছর হায়াত দিলে, মায়ের ডাকের গুম সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার শেষ করবো। ট্রাইব্যুনালে জুলাই-গুমসহ ৮০ মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে।’
টিকে/