শেফালির মৃত্যুর এক বছরেও কাটেনি ধোঁয়াশা
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৪১ পিএম | ২৭ জুন, ২০২৬
বলিউডের মডেল, অভিনেত্রী ও রিয়েলিটি শো তারকা শেফালি জারিওয়ালার আকস্মিক মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো। ২০২৫ সালের ২৭ জুন ৪২ বছর বয়সে তার মৃত্যু ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও, এক বছর পরও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
আকস্মিক মৃত্যু, শুরু হয় জল্পনা
২০২৫ সালের ২৭ জুন রাতে মুম্বাইয়ের নিজ বাসা থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শেফালিকে স্বামী পরাগ ত্যাগি দ্রুত একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। পরদিন মুম্বাইয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষায় নিম্ন রক্তচাপ, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং গুরুতর গ্যাস্ট্রিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হলেও, ময়নাতদন্তে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমে নানা গুঞ্জন
শেফালির মৃত্যুর পরপরই সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে তার অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসা, ভিটামিন ইনজেকশন এবং আইভি ড্রিপ নেওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শেফালির ঘনিষ্ঠ বন্ধু পূজা ঘাই জানান, মৃত্যুর দিন তিনি ভিটামিন সি আইভি ড্রিপ নিয়েছিলেন। তবে তার দাবি, এটি খুবই সাধারণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।
তার ভাষায়, কোভিড-পরবর্তী সময়ে অনেকেই নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করেন। কেউ ট্যাবলেট খান, আবার কেউ আইভি ড্রিপের মাধ্যমে নেন। পুলিশের তদন্তের অংশ হিসেবেই ওই ড্রিপটি কে দিয়েছিলেন এবং কী ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হয়েছিল।

অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশন নিয়ে তদন্ত
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মৃত্যুর দিন শেফালির বাসায় একটি পূজা ছিল। সে কারণে তিনি সারাদিন উপবাসে ছিলেন। সেই অবস্থাতেই বিকেলে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহৃত অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশন নেন বলে তদন্তে উঠে আসে। জানা যায়, কয়েক বছর ধরে প্রতি মাসেই তিনি এই ধরনের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ তার বাসা থেকে গ্লুটাথিয়ন, ভিটামিন সি ইনজেকশন এবং অ্যাসিডিটির ওষুধ উদ্ধার করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখলেও, এসব ওষুধই মৃত্যুর একমাত্র কারণ ছিল—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
চিকিৎসকের কী মত?
হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ রাহুল চাওলা গণমাধ্যমকে বলেন, গ্লুটাথিয়ন বা তথাকথিত ডিটক্স আইভি থেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। এর মধ্যে হৃদ্যন্ত্রের ছন্দে সমস্যা, অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন এবং হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধুমাত্র এসব ইনজেকশন নেওয়ার ইতিহাসের সঙ্গে কারও আকস্মিক মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করা যায় না। প্রতিটি ঘটনার জন্য আলাদা চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন।
এখনও মেলেনি চূড়ান্ত উত্তর
এক বছর পেরিয়ে গেলেও শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। বরং তার মৃত্যু ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন, সামাজিক মাধ্যমের জল্পনা এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছিল। ভারতীয় টেলিভিশন ও বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ হিসেবে ‘কাঁটা লাগা গার্ল’ খ্যাত শেফালির অকাল প্রয়াণ আজও ভক্তদের মনে এক গভীর প্রশ্ন রেখে গেছে—আসলে কী হয়েছিল সেই রাতে?
সূত্র: এনডিটিভি
এসএ/টিএ