ফুটবলাররা মাঠে পানি পান না করে কুলি করার কারণ কী?
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০১ পিএম | ৩০ জুন, ২০২৬
ফুটবল ম্যাচে খেলোয়াড়রা পানীয়র বোতল থেকে এক চুমুক নিয়ে তা কিছুক্ষণ পরই মুখ থেকে ফেলেন। এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখতে পান ফুটবলপ্রেমীরা। ব্যাপার দেখে অবাক লাগলেও এর পেছনে পুরোদস্তুর কৌশল ও বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।
বিশ্বসেরা ফুটবলার ব্যালন ডি’অরজয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাদেরও এ কৌশল ব্যবহার করতে দেখা যায়। যদিও খেলোয়াড়দের এ অভ্যাস শুধু আরাম বা স্বস্তির জন্য নয়; বরং তাদের পারফরম্যান্স বৃদ্ধির কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
খেলোয়াড়দের এ অভ্যাসকে কার্ব রিন্সিং বলে থাকে। এটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে। যেখানে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাকে এ কৌশল ব্যবহার করতে দেখা যায়।
এ কৌশলের উপকারিতা বিশেষভাবে দেখা যায় ফুটবলের মতো কঠোর শারীরিক কসরতের খেলায়। যেখানে একটি ম্যাচ প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে। এমন দীর্ঘ সময় ধরে চলা পরিশ্রমের মধ্যে সামান্য কোনো সুবিধাও পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, কার্ব রিন্সিং ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত পারফরম্যান্স বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এটি দীর্ঘ শারীরিক পরিশ্রমের সময় কার্বোহাইড্রেট সেবনের মতোই কার্যকর বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন গবেষণায় উঠে এসেছে ফুটবলে কার্ব রিন্সিং-
পানির চাহিদা
পানি পানের প্রয়োজন সব খেলোয়াড়ের এক রকম নয়। কেউ কেউ সামান্য পানিতেই স্বস্তি পান, আবার কেউ কেউ বেশি খেললে বা ঘামলে তার বেশি পানির প্রয়োজন হয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রূপ নেয়, খেলার মাঝখানে বেশি পানি পান করলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দেয়। তাদের জন্য তরল কুলি করে ফেলা হলো এক ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখা— মুখের শুষ্কতাও দূর হয়, আবার পেটেও অতিরিক্ত চাপ পড়ল না।
মুখের শুষ্কতা থেকে মুক্তি
দীর্ঘ সময় দৌড়ানো কিংবা পরিশ্রমের সময় মুখের লালারস ঘন হয়ে জমে যায়। এতে শ্বাস নেওয়া কিংবা কথা বলা কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু কুলি করার মাধ্যমে সেই ঘন লালারস পরিষ্কার হয়ে যায়, মুখে সতেজ অনুভূতি ফিরে আসে এবং শ্বাসও সহজে নেওয়া যায়। এটি খেলোয়াড়কে আরাম দেয়, বিশেষ করে যখন তার তৃষ্ণা বোধ হয়।
পারফরম্যান্সের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল
ফুটবলারদের মধ্যে কার্বোহাইড্রেট রিন্সিং কৌশলটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে ফুটবলাররা কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ দ্রবণ মুখে নিয়ে কুলি করে থাকেন, কিন্তু পানি গিলে ফেলেন না। গবেষণা বলছে— এ কার্বোহাইড্রেট দ্রবণ মুখে নিলে মস্তিষ্কে একটি ফলস সিগন্যাল যায়। মনে হয় শরীরে ক্যালোরি প্রবেশ করছে।
এতে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে ক্লান্তির অনুভূতি কমিয়ে দেয় এবং পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে এ কৌশল হলো— শরীর শক্তি পাচ্ছে, মস্তিষ্কে এমন সংকেত দেওয়া হয়।
পাকস্থলীর অস্বস্তি এড়ানো
খেলার মাঝপথে বা প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রমের সময় অতিরিক্ত পানি পান করলে অনেক সময় পেট ভারি বলে মনে হয়। এটি খেলোয়াড়দের জন্য অস্বস্তিকর ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই অনেকে শুধু কুলি করেন, যাতে তৃষ্ণা প্রশমিত হয়, আবার পেটও ভারি না হয়।
এ ছাড়া পানীয় না গিলে তা ফেলে দেওয়ার ফলে পাকস্থলীর অস্বস্তিও এড়ানো যায়। খুব ঘন ঘন পানীয় পেটে গেলে তা হজমে সময় লাগে। আবার হজমের সময় সেই পানীয়র ঘনত্ব কমাতে অতিরিক্ত পানির প্রয়োজন হয়, এতে পেট ফাঁপা কিংবা অস্বস্তি বোধ হতে পারে।
এমআই/টিএ