© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খামেনির দাফনে অংশ নিচ্ছে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি

শেয়ার করুন:
খামেনির দাফনে অংশ নিচ্ছে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২০ পিএম | ৩০ জুন, ২০২৬
ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, পণ্ডিত এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-মন্ত্রী এবং বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সচিব আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৩০টিরও বেশি দেশ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের এই বিশাল আয়োজনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রয়াত নেতার কার্যালয় এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় এই শোক ও বিদায় অনুষ্ঠানটি কয়েক দিনব্যাপী পরিচালিত হবে। সম্পূর্ণ আয়োজনটি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় এবং প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ জাতীয় সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানের তেহরান, কোম, মাশহাদ এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাকে এই বিদায় ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। জনসাধারণের অংশগ্রহণ সহজ করতে দেশটির সরকার বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে: ৪ ও ৫ জুলাই তেহরান প্রদেশে ছুটি, ৬ জুলাই তেহরানে মূল জানাজা ও বিদায় মিছিলের জন্য সারাদেশে সাধারণ ছুটি, ৭জুলাই কোম প্রদেশে ছুটি, ৯ জুলাই খোরাসান রাজাভি প্রদেশে ছুটি।

ইরান ও ইরাক সরকারের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ইরাকেও একটি জাতীয় আয়োজক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৮ জুলাই মরহুম নেতার মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। বাগদাদ বা নাজাফ বিমানবন্দরে ইরাকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার পর পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

ইরাকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে জানাজা শেষে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্ধারিত স্থানে সমাহিত করা হবে।

পুরজামশিদিয়ান জানান, এই অনুষ্ঠান সফল করতে নিরাপত্তা, লজিস্টিকস, মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত কমিটি কাজ করছে। অনুষ্ঠানে আগতদের যাতায়াত সহজ করতে তেহরানের মেট্রো ও বাস সার্ভিস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইন্টারনেটের ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য একটি জাতীয় হটলাইন চালু করা হয়েছে। বিশ্বের ৩০০-এর বেশি বিদেশি সাংবাদিক এই ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠান কাভার করার জন্য ইতিমধ্যেই নিবন্ধন করেছেন।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল জমায়েত কেবল প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধাই নয়, বরং ইরানের জাতীয় শক্তি, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বস্ততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
সূত্র: প্রেস টিভি

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন