© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য হাতে সময় খুবই কম: বীণা সিক্রি

শেয়ার করুন:
তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য হাতে সময় খুবই কম: বীণা সিক্রি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫৪ এএম | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি যুক্ত করায় বাংলাদেশের সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি। তিনি ঢাকার এমন অবস্থানকে ‘রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ আখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, প্রত্যর্পণ একটি আইনি প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফরকে যুক্ত করা অপ্রয়োজনীয় ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। একইসঙ্গে তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য হাতে সময় খুবই সীমিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে তিনি ‘খুবই রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতে দুই দেশের সরকার এখনও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সিক্রি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করার চেষ্টা করছে—এটা খুবই বিস্ময়কর। গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি বা ফেসবুক পোস্ট দিয়েছে, সেটি খুবই রূঢ় ও অহংকারী। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে কী ধরনের আলোচনা চলছে, তা তিনি জানেন না। তবে ভারত ও বাংলাদেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা এখনও চলছে এবং সফরের তারিখ ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে কাজ হচ্ছে। তারেক রহমান ভারত সফরে যাচ্ছেন না—এমন কোনও কথা বাংলাদেশ সরকার এখনও জানায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

সিক্রির দাবি, এ ধরনের মন্তব্য তারেক রহমানের ভারত সফরের গুরুত্বের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের যথেষ্ট গুরুত্ব না দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুবার আমন্ত্রণ জানালেও বাংলাদেশ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সিক্রি বলেন, ‘এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা সত্যিই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার যে গুরুত্ব দিচ্ছে না, এতে সেই মনোভাবই প্রকাশ পায়।’

তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর নরেন্দ্র মোদির দেয়া প্রথম আমন্ত্রণটিই ছিল তার জন্য প্রথম কোনও বিদেশি নেতার আমন্ত্রণ। ওই আমন্ত্রণে তারেক রহমান ও তার পরিবারকে সুবিধাজনক যেকোনও সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

সিক্রির ভাষ্য, সে সময় এমন একটি ধারণা ছিল যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হবে ভারত। কিন্তু তা হয়নি। এরপর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ থেকে এ বিষয়ে কোনও সাড়া আসেনি। তিনি আরও বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্যও তারেক রহমানকে দ্বিতীয়বার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। কিন্তু সেই আমন্ত্রণেরও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য এখন খুব অল্প সময়ের একটি সুযোগ রয়েছে। তাই এই সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি ‘অপ্রয়োজনীয়, কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’।

সিক্রি বলেন, ‘সবাই জানেন, আর বাংলাদেশের সরকার তো এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানে যে, প্রত্যর্পণ একটি আইনি প্রক্রিয়া। এটি শেষ হতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। লন্ডনসহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা প্রত্যর্পণের আবেদন করেছি—এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে বছরের পর বছর সময় লেগেছে, অনেক ক্ষেত্রেই এখনও শেষ হয়নি। এমনকি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও একটি চূড়ান্ত স্বাক্ষর বাকি থাকে।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে কি তারেক রহমান আগামী দুই-তিন বছর ভারতে আসতে চান না? প্রশ্নটা হলো সেটাই।’

সিক্রি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতি চলার মধ্যে তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য খুবই সীমিত একটি সময় হাতে রয়েছে। সম্ভবত চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদও সফর হতে পারে। কিন্তু এখনও কোনও সাড়া না দিয়ে এ ধরনের বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘আমি এটাকে হাস্যকরও বলতে চাই না। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরকে যুক্ত করার দাবি একেবারেই অপ্রয়োজনীয়, কূটনৈতিকভাবে অনুপযুক্ত এবং প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

প্রসঙ্গত, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে নয়াদিল্লি ও ঢাকার কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে সেটি হবে ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রথম ভারত সফর। সফর নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনও চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। মূলত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে এক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়েও ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

তবে শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার বিষয় থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে ভারত সরকার। মোদি সরকার দাবি করেছে, রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের ‘কোনও সম্পৃক্ততা’ ছিল না।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দাবি করেন, অনুষ্ঠানটি একটি ‘বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান’ আয়োজন করেছে এবং সেখানে দেয়া কোনও বক্তব্যের সঙ্গেই ভারত সরকার একমত নয়।

জয়সওয়ালের ভাষ্য, ‘আপনি যে অনুষ্ঠানের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছে। এর সঙ্গে সরকারের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সেখানে যেসব মতামত দেয়া হতে পারে, সেগুলোরও কোনোটিই সরকার সমর্থন করে না।’

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন