ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে এক বছরেই ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলার!
ছবি: সংগৃহীত
১২:২৮ পিএম | ০১ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়ের মূল খাতে পরিণত হয়েছে ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত তাঁর সবশেষ আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে ট্রাম্প পরিবার ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। মূলত ক্রিপ্টো শিল্পের অনুকূলে ট্রাম্পের নেওয়া নানা নীতির কারণেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদে এই বিশাল উল্লম্ফন ঘটেছে।
২০২৫ সালের বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, ট্রাম্প এবং তাঁর ছেলেদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল' থেকে প্রায় ৮০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে ক্রিপ্টো টোকেন বিক্রি করে ৫২ কোটি ডলার এবং শেয়ার বিক্রি থেকে ২৫ কোটি ডলার এসেছে। এ ছাড়া নিজ নামের 'ট্রাম্প মিম কয়েন' বিক্রি করে তিনি অতিরিক্ত ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্রিপ্টো খাতের সুবিধার্থে ট্রাম্প একাধিক নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্টেবলকয়েনের জন্য ফেডারেল নিয়ম প্রবর্তন এবং বিচার বিভাগ ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মাধ্যমে এই শিল্পের ওপর নজরদারি হ্রাস করা। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্প অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে রূপান্তর করেছেন এবং এখানে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত বিদ্যমান নেই।
ডিজিটাল মুদ্রার পাশাপাশি ট্রাম্পের চিরাচরিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়েও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে তাঁর গলফ কোর্স এবং রিসোর্টগুলোর আয় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাবের আয় ৫ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার হয়েছে। তবে ট্রাম্প টাওয়ারের মতো আবাসন খাতগুলো থেকে আয়ের বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম।
সার্বিক বিষয়ে ফেডারেল এথিক্স অফিসের সাবেক প্রধান ডন ফক্স মন্তব্য করেছেন যে, ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রেসিডেন্ট তাঁদের আর্থিক বিষয়াদি এমনভাবে পরিচালনা করেছেন যাতে কোনো স্বার্থের সংঘাত না ঘটে। কিন্তু ট্রাম্পের বেলায় এই দীর্ঘদিনের রীতি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট ঠিক কোন ধরনের ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে নতুন আইন প্রণয়নের উপযুক্ত সময় চলে এসেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এফআর/এসএন