© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না মোদি

শেয়ার করুন:
খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না মোদি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২৩ পিএম | ০১ জুলাই, ২০২৬
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই জায়গায় দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে নয়াদিল্লি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিন নিহত হন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় দাফনানুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

আগামী সপ্তাহে খামেনির আনুষ্ঠানিক জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচির কারণে তেহরান প্রদেশে তিন দিন সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ মানুষ এই দাফনানুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
 
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খামেনির শেষকৃত্যে আমন্ত্রণ জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ এক প্রতিবেদনে জানায়, খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না মোদি।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় পূর্ব নির্ধারিত সফর রয়েছে। সেই কারণে খামেনির শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না মোদি। সেই জায়গায় প্রতিনিধি হিসেবে বিহারের রাজ্যপাল লেফট্যান্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনায়েন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
 
এদিকে ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
 
মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং আয়োজক কমিটির প্রধান আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, অন্তত ৩০টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর আবেদন করেছে। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে অনুষ্ঠানটি কয়েকদিনব্যাপী আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
 
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরাকের বাগদাদ বা নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হবে। এরপর নাজাফ ও কারবালায় শোকমিছিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
 
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, পুরো আয়োজনটি জাতীয় পর্যায়ের একটি কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ এর নেতৃত্বে একটি জাতীয় সদর দফতর এ কার্যক্রম সমন্বয় করছে।
 
অনুষ্ঠান ঘিরে ইরানে কয়েক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তেহরান, কোম ও খোরাসান রাজাভি প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে ছুটি থাকবে। জনসাধারণের যাতায়াত সহজ করতে তেহরানের মেট্রো ও বাসসেবা ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
 
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিদেশি সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি গণমাধ্যমকর্মী নিবন্ধন করেছেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পুরো আয়োজন চলাকালে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বিদায়ী অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও আঞ্চলিক সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী হয়ে উঠবে।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন