© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরান সমঝোতা চুক্তির শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে : আমিরাত

শেয়ার করুন:
ইরান সমঝোতা চুক্তির শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে : আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:১১ পিএম | ০৮ জুলাই, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে ইরান ইসলামাবাদ চুক্তির লঙ্ঘন করেছে বলে মন্তব্য করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে আমিরাতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, উত্তেজনা প্রশমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মেনে চলতে তেহরান অক্ষম।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইরানের ৮০টি সামরিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর হামলা এবং তার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ৮৫টি স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সরব হন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ জায়েদ আল নাহিয়ানের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ।

“হরমুজ প্রণালিতে কাতার এবং সৌদির বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং আমাদের ভগিনীপ্রতিম দেশ বাহরাইন ও কুয়েতে বার বার আগ্রাসন চালানোর মাধ্যমে ইরান ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে ইরান সমঝোতা চুক্তির শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ এবং শুধু তা-ই নয়, উত্তেজনা প্রশমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরান দীর্ঘ মেয়াদে তা মেনে চলতে অক্ষম।”

উল্লেখ্য, ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে- এই চুক্তির মেয়াদ থাকাকালীন, অর্থাৎ স্বাক্ষরের পর ৬০ দিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে কোনো অবরোধ রাখবে না ইরান এবং প্রণালিতে চলাচলরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা করা থেকে বিরত থাকবে।

ইরানের এই শর্তপালনের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং ইরানি বন্দরগুলো থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবে- এমন শর্তও উল্লেখ ছিল চুক্তির খসড়াপত্রে।

কিন্তু সেই শর্ত ভঙ্গ করে গত ৫ জুলাই হরমুজে ৩টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। হামলার শিকার জাহাজগুলো হল- মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী কাতারি জাহাজ ‘এমটি আল আল-রেকাইয়াত’, সৌদি আরবের পতাকাবাহী ‘এমটি ওয়াদিয়ান’ এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমটি সাইপ্রাস প্রসপারিটি’।

বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসির এই হামলার পর গতকাল মঙ্গলবার ইরানের ৮০টি স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। একই সঙ্গে ইরানের তেলের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাও পুনর্বহাল করে ওয়াশিংটন।

হামলার পর এক বার্তায় সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম এমন অস্ত্র দিয়ে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার সাইট এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকোমের এই হামলার জবাব দিতে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮৫টি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর।

এদিকে হামলা-পাল্টা হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে ‘অসুস্থ’, ‘নিকৃষ্ট’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

অন্যদিকে ইরানের শীর্ষ মুখপাত্র ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার দায় যুক্তরাষ্ট্রের।

সূত্র : সিএনএন

টিকে/

মন্তব্য করুন