© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আসুন 'সবুজ বসতি' গড়ে তুলি: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
আসুন 'সবুজ বসতি' গড়ে তুলি: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫৯ এএম | ১০ জুলাই, ২০২৬
দেশে সবুজ বসতি গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো বিষয়টি যদি আমাদের নিত্যদিনের  অভ্যাসে পরিণত করতে পারি, তাহলে আমরা সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বসতি গড়ে তুলতে পারব।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার যে আয়োজন এটিকে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটা নিরাপদ বিনিয়োগ বলে আমি মনে করি। এই আয়োজনটা কেবল একটা বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা বোধ হয় উচিত হবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশ হোক সকল প্রাণী এবং প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।’

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার  অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান এবং বনায়ন অংশীজনের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্ণাঢ্য ও পরিপাটি এই অনুষ্ঠানটি ছিল ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো গোছানো। তবে কোথাও ছিল না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে ছবি।

বিষয়টি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের অনেকের দৃষ্টি কাড়ে। সম্মেলন কেন্দ্রের মূল মঞ্চ এবং চারপাশে দেয়ালে টানানো হয় পরিবেশসংক্রান্ত নানা স্লোগানসংবলিত ২০টি ব্যানার-ফেস্টুন। এসব ব্যানার-ফেস্টুনে কিভাবে পরিবেশ রক্ষা করা হবে, কিভাবে প্রাণিকুলসহ জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখা যাবে, কিভাবে গাছ রোপণ করা হবে, কিভাবে গাছের পরিচর্চা করতে হবে—সেই সংক্রান্ত পরামর্শ ও নির্দেশনা ছিল। সবাইকে একটি করে গাছ লাগানোর আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ বা সবুজের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবগত আছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকা শহরকে যতটা গ্রিন (সবুজ) দেখতাম, এখন বোধহয় দেখি না।
এ জন্য আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে। পরিবারে নতুন সন্তান জন্ম নিলে তা আমাদের নিজেদের হোক বা আত্মীয়-স্বজনের, আমরা যদি সেই সন্তানকে স্মরণ করে একটি গাছ রোপণ করি, তাহলে ভালো হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি ও স্মরণ রাখি, তাহলে নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠবে। এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন সফল হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো (ইশতেহারে) অনুযায়ী, আমরা পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছি। তবে ইচ্ছামতো গাছ লাগালে এই লক্ষ্য পূরণ হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কোন পরিবেশে,  কোন মাটিতে, কেমন আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ লাগানো উচিত—এ বিষয়ে আমাদের কমবেশি ধারণা থাকতে হবে এবং এটিকে প্রাধান্য দিয়েই গাছ লাগাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছগুলোকে অবশ্যই পরিহার করা উচিত। একই সঙ্গে নতুন বৃৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে  দেশীয় প্রজাতির গাছ—যেমন ঔষধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয় বনজ, ফলদ, অর্থকরী বা বিপন্ন  প্রজাতির গাছ লাগানো খুবই দরকার।’

সবুজায়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবুজের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। সরকার গঠনের পর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর পদক্ষেপ নিয়েছি। কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে, স্কুলগুলোতে একটি কর্মসূচির আওতায় একসঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার গাছ  রোপণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে ক্লাইমেট ইউথ  ফেলোশিপ চালুর এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। এই উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে অবশ্যই আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।’

বৃক্ষরোপণের পর তার পরিচর্যার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাছপালা, প্রাণী, মাটি, পানি ও বায়ু—পরিবেশের সবকিছু যেন স্বাভাবিকভাবে মিলেমিশে থাকতে পারে, বনায়নের মাধ্যমে এমন একটি ইকোসিস্টেম বজায় রাখার চেষ্টা করছি আমরা। বর্তমান সরকারের কাজের লক্ষ্য এই পুরো পরিবেশটাকে ঠিকঠাক রাখা।’

ইকোসিস্টেম রক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে স্থানীয় ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে থাকা গাছ, যেগুলোকে আমরা ‘মাদার ট্রি’ বলি, সেগুলো যেন রক্ষা পায়, কেটে ফেলা না হয়, এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আজ এখানে বন বিভাগের বড় কর্মকর্তারা আছেন, আমি আশা করব, তাঁরা এই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।’

দেশের নদী বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি নদীগুলো বাঁচাতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পানি নিরাপত্তা—কোনোটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই ইকোসিস্টেম রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী  না ভেবে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক—এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও যতটা সম্ভব কঠোর অবস্থান নিতে আমরা চেষ্টা করছি। বহুদিনের অভ্যাসের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি কাজ, এটি মানুষকে বুঝিয়ে করাতে হবে। তাই আমি বলেছিলাম, এই বিষয়টি সমাধান করতে প্রতিটি নাগরিককে যার যতটুকু সম্ভব, যেই পরিবেশে সম্ভব, সেভাবেই পশুপাখি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএস-ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদী তীর ও খালের দুই পাশে সবুজায়ন এবং ইকোট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বর্তমান সরকার।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন