বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ভক্তদের নতুন প্রতিশ্রুতি দিলেন সালাহ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২১ পিএম | ১০ জুলাই, ২০২৬
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই যেন নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম। কয়েক মুহূর্ত আগেও যেখানে ছিল স্বপ্নের উচ্ছ্বাস, সেখানে নেমে আসে হতাশার ভারী ছায়া। কারণ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মিশরকে।
এমন নাটকীয় পরাজয়ের পর মিশর শিবিরে ছিল কান্না, হতাশা আর অপূর্ণতার বেদনা। কোয়ার্টার ফাইনালের দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়েই মাঠ ছাড়ে। তবে এই কঠিন মুহূর্তে সমর্থকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ।
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছে হারার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় মিশরীয় সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন লিভারপুল তারকা। একই সঙ্গে জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও দূরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

সালাহ লিখেছেন, ‘আমি জানি আপনারা এখনও কতটা ব্যথিত। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আন্তর্জাতিক ফুটবলে মিশরের এক নতুন পথচলার শুরু নিশ্চিত করতে আমি আমার সাধ্যের সবকিছু করব। বিশ্বকাপে শুধু কোয়ালিফাই করাই আমাদের লক্ষ্য হবে না, আর শুধু অংশগ্রহণ করেই আমরা সন্তুষ্ট থাকব না। এই দল আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা দেওয়ার যোগ্যতা রাখে।’
বিদায়ের কষ্ট থাকলেও ২০২৬ বিশ্বকাপ মিশরের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কোচ হোসাম হাসানের অধীনে আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ‘গ্রুপ এ’-এর শীর্ষস্থান অর্জন করে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল তারা। এরপর বিশ্বমঞ্চে তাদের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।
গ্রুপ পর্বে ইরানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ১-১ গোলের ড্র করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল মিশর। এরপর শেষ ৩২-এর ম্যাচে ডালাসে ইতিহাস গড়ে তারা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের প্রথম জয়ের স্বাদ পায় দলটি।
সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর আটলান্টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরও বড় স্বপ্ন দেখছিল মিশর। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে হেরে শেষ হয়ে যায় তাদের রূপকথার যাত্রা।
এমআর/টিকে