© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ

শেয়ার করুন:
কবি আল মাহমুদের ৯১তম জন্মদিন আজ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০৪ এএম | ১১ জুলাই, ২০২৬
‘ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ/দুপুর বেলার অক্ত/বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়?/বরকতের রক্ত।’ বাংলা কবিতার ইতিহাসে এ পঙিক্তগুলো যেমন অমর, তেমনই এর স্রষ্টা কবি আল মাহমুদও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল নাম।

বহুমাত্রিক ও স্বতন্ত্র কাব্যভাষায় তিনি বাংলা কবিতাকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসেবে তিনি রেখে গেছেন অনন্য অবদান। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এই কবির ৯১তম জন্মবার্ষিকী আজ শনিবার, ১১ জুলাই।

এ উপলক্ষে কবির জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী স্মরণোত্সবের আয়োজন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উত্সবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ। আজ শনিবার আলোচনাসভা, কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ স্মরণোৎসব।

আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌড়াইল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

ষাটের দশকে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি বাংলা কবিতায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘সোনালি কাবিন’ তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির কবিদের কাতারে প্রতিষ্ঠা করে। ভাটি বাংলার নদী, চরাঞ্চলের জীবন, গ্রামীণ প্রেম-বিরহ, লোকজ সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক ভাষার সৃজনশীল ব্যবহারে তাঁর কবিতা পেয়েছে স্বতন্ত্র শিল্পরূপ।

কাব্যচর্চার পাশাপাশি কথাসাহিত্যেও তিনি ছিলেন সমান সফল। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘কবি ও কোলাহল’ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কাবিলের বোন’।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন