© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ব্যক্তিগত চাওয়া ছেড়ে চিকিৎসকদের পুরো স্বাস্থ্য খাতের কথা ভাবতে হবে’: ঢামেকের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
ব্যক্তিগত চাওয়া ছেড়ে চিকিৎসকদের পুরো স্বাস্থ্য খাতের কথা ভাবতে হবে’: ঢামেকের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩৩ পিএম | ১১ জুলাই, ২০২৬
"আমরা কি আসলেই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন চাই? নাকি নিছক নিজেরা বড় ডাক্তার হওয়ার জন্য এই পথে আছি— চিকিৎসকদের এখন নিজেদের কাছে এই প্রশ্ন করার সময় এসেছে।"

শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এ কথা বলেন স্বাস্থ্য ড. এম এ মুহিত। 



অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ঢামেকের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।  

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব ও দেশপ্রেমের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "গাছের আগাটাও খাবো, তলারটাও কুড়াবো— এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আমাদের মতো সীমিত সম্পদের দেশে যুক্তিসঙ্গত চিন্তা না করলে অনেক বড় বড় ভবন হবে, পোস্টিং হবে, কিন্তু কোনো রোগী চিকিৎসা পাবে না।"



তিনি ঢামেক শিক্ষার্থীদের সামনে তাঁর শৈশব ও ছাত্ররাজনীতির স্মৃতিচারণ করে বলেন, "এই ক্যাম্পাস আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের জায়গা। এখানে প্রথম স্লোগান দিতে শিখেছি, প্রথম মিছিল করেছি, নির্বাচন করে জিতেছি এবং হেরেছিও। এমনকি আমার সহধর্মিণী যখন বুয়েটে আর্কিটেকচারে পড়তেন, তিনিও প্রায়ই এই ক্যাম্পাসে আসতেন।"

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী তাঁর পিতা ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুম ড. এম এ মতিনের কথা উল্লেখ করে বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমান সাহেব যখন প্রথম মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন, তখন সেই মন্ত্রিসভায় ঢামেকের দুজন প্রখ্যাত অধ্যাপক ছিলেন— একজন প্রফেসর ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং অন্যজন আমার পিতা ড. এম এ মতিন।" তিনি আরও বলেন, ডা. আলিম চৌধুরী, ডা. ফজলে রাব্বি ও শহীদ ডা. মিলনের মতো চিকিৎসকেরা শুধু বড় ডাক্তারই ছিলেন না, তারা দেশের সংকটে বীরের মতো সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের সেই দেশপ্রেম আমাদের ধারণ করতে হবে।  

চিকিৎসকদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকেরা আজ প্রায় ২৫টি সুনির্দিষ্ট সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। এই সুন্দর ইন্টারঅ্যাক্টিভ ও তথ্যবহুল অনুষ্ঠান আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। 

প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করে বলেন, "আমাদের ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ পরিকল্পনায় এই সবকটি সমস্যারই সমাধানের রোডম্যাপ আছে। তবে আগের দিনের মতো 'নেতা এসে করে দেবেন আর চামচারা বাহবা দেবে'— তারেক রহমান সেই রাজনীতির অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি ‘পার্টিসিপেটরি লিডারশিপ’ বা অংশীদারিত্বের নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন।"  

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত বলেন, "বাংলাদেশের কোনো উপজেলাই এখন আর গ্রাম নয়, সেখানে সব আধুনিক নাগরিক সুবিধা পাওয়া যায়। রেফারাল নেটওয়ার্ক কার্যকর করতে চিকিৎসকদের উপজেলা পর্যায়ে যেতে হবে, অন্যথায় ঢাকা মেডিকেলের ওপর থেকে রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব নয়।"

সবশেষে, আবেগ ও তেলবাজির ঊর্ধ্বে উঠে সততার সাথে কাজ করার মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ ও আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সকল স্তরের চিকিৎসকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

টিএ/

মন্তব্য করুন