গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে : জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০২ পিএম | ১১ জুলাই, ২০২৬
বিরোধী দলকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি। আমরা লড়াই করে যাব। গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব, ইনশাআল্লাহ। এর থেকে একচুল পরিমাণও আমরা সরব না।’
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমি বলেন, ‘সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না সরকার।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের মুখ থেকে সীমান্ত নিয়ে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসেনি। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য? কোন দেশের শাসক আপনারা? বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয় সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। আমরা যত দিন বেঁচে থাকব, দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটা বালুর ওপরেও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেব না।’
বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘তিস্তা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিস্তার বালুচরে কোদাল মেরে প্রথমেই বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা শুরু করব। দুঃখের বিষয় তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল অনেক ভালো ভালো কথা বলছে। নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও এই আন্দোলন করেছে কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে দশ টাকারও কোনো বাজেট নেই। আমরা আর কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না, দেখতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয় আগামীতে ইনশাআল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়। এখন হিমাগারে রাখতে গেলে বস্তা প্রতি ছয় শ টাকা তাদের দিতে হচ্ছে। এটা অন্যায়, এটা জুলুম। এটা বন্ধ করতে হবে। ন্যায্য দামেই সেখানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু এটি নয়, আরো যত জিনিস এখানে উৎপাদন হয়, তার ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি কৃষককে নিশ্চিত করতে হবে।’
জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘বাজারে দ্রব্যমূল্যে জনগণ অস্থির। সরকারের হৃদয়ে এগুলো ঢোকে না। কারণ জনগণ তো চাঁদাবাজি করে না। তাদের তো অবৈধ অর্থের উৎস নেই। তারা ঘুষ-দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়। তাদের এই দুঃখ ওই লোকেরা কেমনে বুঝবে যারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত? যারা ঘুষ-দুর্নীতিতে ব্যস্ত, তারা এটা বুঝবে না।’
জাতীয় নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সব দুর্নীতিবাজরা এক হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। আগামীতে এই সুযোগ আর দেবে না জনগণ। তখন ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তির ওপরে ১১ দল একটি সরকার গঠন করবে। যেই দেশে চাঁদাবাজ তো দূরের কথা, তাদের ছায়াও সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি করার প্রয়োজন কারো হবে না। সম্মানজনকভাবে সবাই বাঁচতে পারবে। এর পরও কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। প্রধানমন্ত্রী হলেও না। তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও এনপিসির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ সময় আরো বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ (বীরবিক্রম), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ প্রমুখ।
টিকে/