সেমির আগে আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে ইংল্যান্ড
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৬ এএম | ১৩ জুলাই, ২০২৬
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—দুই দলই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তবে শেষ চারের টিকিট কাটার এই যাত্রাপথ দুই দলের সামনে এমন এক শারীরিক অসমতা তৈরি করেছে, যা মাঠের লড়াইয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকাতে দুই দলকেই অতিরিক্ত সময়ে লড়তে হলেও, শেষ চারের মহারণের আগে তুলনামূলক কম ক্লান্তি নিয়ে মাঠে নামবে ইংলিশরা।

থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে উঠতে অতিরিক্ত সময়ের সাহায্য নিতে হলেও, লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনার ওপর দিয়ে ধকল গেছে অনেক বেশি। নকআউট পর্বে ইতিমধ্যেই দুটি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হয়েছে লিওনেল মেসি-হুলিয়ান আলভারেজদের। যার ফলে মাঠের ভেতর ফুটবলারদের কাটানো সময়ের পরিমাণটা অনেক বেড়ে গেছে। তার ওপর সেমি ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের চেয়ে রিকভারি বা বিশ্রামের জন্য বেশ কম সময় পাচ্ছে বিশ্বকাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। মাঠের লড়াইয়ে এই বাড়তি ক্লান্তি আর্জেন্টিনার জন্য চড়া মূল্য দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারাতে ইংল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ের সাহায্য নিতে হয়েছিল, যা ছিল এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ৯০ মিনিটের গণ্ডি পেরোনো প্রথম ম্যাচ। অন্যদিকে, স্কালোনির আর্জেন্টিনার ওপর দিয়ে ঝড় গেছে দ্বিগুণ। সেমিফাইনালে ওঠার আগে ইতিমধ্যেই দুটি ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়েছে তাদের; প্রথমটি শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে কেপ ভার্দের বিপক্ষে, আর সবশেষটি এই শনিবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রিকভারি টাইমের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। আর্জেন্টিনার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। এই সামান্য সময়ের ব্যবধানটাই ইংল্যান্ডকে বাড়তি বিশ্রামের সুযোগ করে দিচ্ছে; বিশ্বকাপের এই ক্লান্তিকর ও চূড়ান্ত পর্যায়ে যা যেকোনো দলের জন্যই এক বিশাল স্বস্তির প্রভাবক।

পরের ম্যাচের আগে হাতে সময় চার দিনেরও কম। তাই আলবিসেলেস্তে কোচিং স্টাফের পুরো মনোযোগ এখন মাঠের কৌশলের চেয়ে ফুটবলারদের শরীর চাঙ্গা করার ওপর। সেমিফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে যতটা সম্ভব সতেজ ফুটবলারদের মাঠে নামানোই এখন স্কালোনির প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড, তখন মাঠের লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায় ইতিহাস আর তীব্র আবেগের এক বাড়তি আবহ, যা এই দ্বৈরথকে রূপ দেয় অন্যরকম এক মহারণে।
মাঠের খেলার ক্লান্তি যদি ইংল্যান্ডকে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রাখে, তবে ভ্রমণের রসদ আর লজিস্টিকসের হিসাব বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। চলতি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে কিলোমিটারের হিসাবে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে ‘থ্রি লায়ন্স’ দলেরই। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্ট চলাকালীন আকাশপথেই প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার এক ক্লান্তিকর ধকল সইতে হয়েছে হ্যারি কেইনদের।
একেএস/টিএ