পশ্চিমবঙ্গে নতুন আইন পাস, বিনা বিচারে জেলে আটকে রাখা যাবে ১ বছর
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪০ পিএম | ১৩ জুলাই, ২০২৬
রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে সোমবার থেকে দুটি কঠোর 'গুন্ডা বিরোধী' আইন কার্যকর করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গত মাসেই বিল দুটি পাস হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন বিনিয়োগ এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করা তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
গত ২৯শে জুন 'পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষা (সংশোধনী) বিল, ২০২৬'- এই দুটি বিল পাস হয়।
প্রথম আইন: উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের ধাঁচে তৈরি এই আইনে বিনা বিচারে ১২ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটকাদেশের (Preventive Detention) বিধান রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় আইন: সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তাব রয়েছে এই আইনে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একটি 'দাবি কমিশন বা ক্লেমস কমিশন গঠন করা হবে।
শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরকালে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যপাল বিল দুটিতে সম্মতি দিয়েছেন এবং সোমবার থেকেই তা রাজ্যে কার্যকর হবে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং ওয়াকফ আইনের ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া দাঙ্গা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সব ধরনের ভাঙচুরের বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতার (Zero Tolerance) নীতি অনুসরণ করবে।'
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর রবিবার রাজ্য পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলা পুলিশ প্রশাসনকে এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে আইনগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে।"
নতুন এই আইন কার্যকর হওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, 'বিক্ষোভের নামে বাংলায় যথেষ্ট বিশৃঙ্খলা হয়েছে। রাজ্যকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। দুষ্কর্মের সন্দেহে পুলিশের প্রতিরোধমূলক আটক এমনই একটি পদক্ষেপ যা রাজ্যে আরও ভালো আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পারে।'
অন্যদিকে, এই আইনগুলোকে 'কঠোর' আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল বাম ও কংগ্রেস। সিপিআই (এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি অভিযোগ করে বলেন, 'এই আইনগুলো স্পষ্টতই সেইসব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে, যারা এই সরকারের জনবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে উঠবে। প্রথমে তারা অসহায় গরিবদের ওপর বুলডোজার চালিয়ে তাদের দোকানপাট ও ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেবে এবং যদি তারা প্রতিবাদ করে, তবে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এমনকি ধৃতদের নিজেদের পছন্দের আইনজীবীও রাখতে দেওয়া হবে না। বিজেপি নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে।'
কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে একে ব্রিটিশ আমলের 'রাওলাট আইন'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন মানুষ অবশ্যই এই ধরনের স্বৈরাচারী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে।'
সূত্র: দ্য পাইওনিয়ার
আরআই/টিএ